আজ ভরা কোটাল, কলকাতায় জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা, জারি সতর্কতা

বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপের প্রভাবেই রাজ্যে দ্রুত ঢুকতে পারে বর্ষা। এমনটাই মত আবহাওয়াবিদদের। আগামী কয়েকদিন রাজ্য জুড়ে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আজই ভরা কোটাল। সমুদ্র ও নদীর জল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবারই আসছে ভরা কোটাল। ইয়াস বিধ্বস্ত উপকূলবর্তী এলাকাগুলি এখনও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি। তার মধ্যে এই ভরা কোটাল নয়া দুশ্চিন্তা ফেলে দিয়েছে। এলাকাবাসীকে সতর্ককরা হচ্ছে। তৈরি রাখা হয়েছে টিম। ইয়াসের পরে অনেকদিন কেটে গেলেও এখনও বহু গ্রাম জলমগ্ন। ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন বহু মানুষ। এখন ভরা কোটাল ঘিরে তাদের মধ্যেও দুশ্চিন্তা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নিম্নচাপের জেরে ঝড় বৃষ্টি এবং ভরা কোটালের জেরে জলোচ্ছ্বাস হতে পারে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। ফলে সতর্ক করা হচ্ছে সবাইকে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সতর্ক রয়েছে শহর কলকাতাও। গঙ্গার জল বেড়ে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে বৈঠক করেছে কলকাতা পুরসভায়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই ভরা কোটালে সবথেকে বেশি চিন্তার কারণ উপকূলবর্তী এলাকাগুলিকে ঘিরে। পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক এলাকা, সুন্দরবন, গোসাবা এখনও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি। নতুন করে জল ঢুকলে, কী হাল হবে তা নিয়েই বাড়ছে চিন্তা।
অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হয়েছে একটি নিম্নচাপ। তার জেরে গোটা রাজ্য জুড়েই বৃষ্টিপাত হবে বলে জানা গিয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, কলকাতা, হুগলি, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়াতে প্রবল বৃষ্টি ও সেই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়া, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদাতে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে আগামী কয়েকদিন। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাতের আভাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই নিম্নচাপের হাত ধরেই রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে মৌসুমি বায়ু। হাওয়া অফিস জানিয়েছে এই নিম্নচাপের ফলে রাজ্যে ঢুকতে পারে বর্ষা।
সুত্র : আজতক



