ভাঙছে জোট? বামফ্রন্টের কেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনে নেই কংগ্রেস

একুশের বিধানসভা ভোটে জোট করে লড়াই করে ভরাডুবি হয় বামফ্রন্টের। উল্টোদিকে কংগ্রেসও বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে খাতাই খুলতে পারেনি। এহেন পরিস্থিতিতে বামফ্রন্টের তরফে কেন্দ্রের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন ডাকা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কংগ্রেসকে ডাকা হয়নি।
যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে জোটের ভবিষ্যত্ আদৌ কী? জোট আদৌ থাকবে তো। কারণ জোট ছাড়তে চাইছেন একাধিক বাম নেতাও। জোট করে লড়াই করেই বামেদের এই ভরাডুবি হয়েছে বলে মনে করেন তরুণ প্রজন্মের বাম নেতারাও।
বিধানসভা ভোটের আগে বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিকবার একসঙ্গে রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছে বাম-কংগ্রেসকে। পেট্রোপণ্য এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ২৪ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনে পথে নামছে বামফ্রন্ট। বামফ্রন্টে না থাকলেও এই আন্দোলনে সামিল হবে পিডিএস, সিপিআইএমএল লিবারেশনের মতো বাম দলগুলিও। রাজধানী দিল্লিতে আজ থেকেই আন্দোলন শুরু করে দিয়েছে বামদলগুলি। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই বাম নেতারা একের পর এক কংগ্রেস বিরোধী পোস্ট করছে ফেসবুকে।
বামফ্রন্টের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে মিনাক্ষী মুখার্জির মতো যুব নেত্রীও সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্মৃতিচারণায় কংগ্রেসি গুন্ডা বলে তোপ দাগেন কংগ্রসের দিকে। যা নিয়ে গর্জে ওঠেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে বামেদের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রকে চিঠি দিয়ে এর জবাব চাওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানান, ‘এই ফেসবুক পোস্টগুলি যাঁরা করছেন সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত।
দল এ বিষয়ে কিছুই জানে না। দল এবিষয়গুলিকে সমর্থনও করে না।’ উল্লেখ্য, বামেদের সঙ্গে জোট ভাঙতে চেয়ে প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের একটি বড় অংশ চিঠি দিয়েছে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের একটি বড় অংশ জোট থেকে বেরিয়ে আসতে চান। তাঁরা মনে করেন, বামেদের সঙ্গে জোট করতে গিয়েই নিজেদের গড় মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুরে একটি আসনও জিততে পারেনি কংগ্রেস। তাই জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসে নতুন করে লড়াই করতে চায় তাঁরা।
সুত্র : আজকাল



