আনলক করলেই দ্রুত আসবে করোনার তৃতীয় ঢেউ, আশঙ্কা প্রকাশ দিল্লি হাইকোর্টের

গত ১৯ এপ্রিল দিল্লিতে লকডাউন করা হয়। কোভিড সংক্রমণ কমে আসায় গত কয়েক সপ্তাহে কড়াকড়ি অনেকাংশে শিথিল করা হয়েছে। তা নিয়ে শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতির বক্তব্য, কোভিড বিধি ভাঙলে তৃতীয় ওয়েভ আসবে আরও দ্রুত। কোভিড সংক্রমণ নিয়ে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে হাইকোর্ট। যারা কোভিড বিধি ভাঙবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
দোকানদারদের কোভিড বিধি সম্পর্কে সচেতন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাত্র একমাস আগেই রাজধানীতে করোনার সংক্রমণ উঠেছিল তুঙ্গে। কিন্তু কড়াকড়ি শিথিল করার ফলে এর মধ্যেই শহরের বাজারগুলিতে দেখা যাচ্ছে ভিড়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না অনেকে। বহু লোক মাস্কও পরেননি।
গত সোমবার থেকে শহরের দোকান ও মলগুলি খুলে দেওয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক বাজারগুলিও খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে দোকান খুলতে দেওয়া হচ্ছে। চিকিত্সক ও রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিল্লিতে যেভাবে প্রায় সবই খুলে দেওয়া হয়েছে, তাতে সংক্রমণ ফের বাড়তে পারে। জুনের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছিলেন, করোনার থার্ড ওয়েভের মোকাবিলার জন্য টাস্ক ফোর্স তৈরি হচ্ছে।
আইসিইউ বেডের সংখ্যা ও ওষুধের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। আপাতত সারা দেশেই স্তিমিত হচ্ছে কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ। কমছে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে দৈনিক মৃত্যুর হারও। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৬২ হাজার ৪৮০ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫৮৭ জনের।
এই মুহূর্তে গোটা দেশে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যা ৮ লক্ষ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬৫৬ জন। বিগত ৭৩ দিনে যা সর্বনিম্ন। এর পাশাপাশি গত একদিনে কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন ৮৮ হাজার ৯৭৭ জন। দেশজুড়ে সুস্থতার হার আপাতত ৯৬ শতাংশেরও বেশি।
যা রীতিমতো স্বস্তিদায়ক। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে মোট ২ কোটি ৯৭ লক্ষ ৬২ হাজার ৭৯৩ জন করোনা রোগীর মধ্যে সেরে উঠেছেন ২ কোটি ৮৫ লক্ষ ৮০ হাজার ৬৪৭। মৃত্যু হয়েছে ৩ লক্ষ ৮৩ হাজার ৪৯০ জনের। পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত দেশের ২৬ কোটি ৮৯ লক্ষ ৬০ হাজার ৩৯৯ জন নাগরিকের ভ্যাকসিনেশন হয়েছে বলে কেন্দ্রের তরফে খবর।
সুত্র : দ্য ওয়াল



