মহানগরীর জল-যন্ত্রণাতে শুভেন্দু অধিকারীকে এক হাতে নিলেন পুরপ্রশাসক ফিরহাদ হাকিম

এখনও জলমগ্ন রয়েছে কলকাতার বহু এলাকা। বেহালার বিস্তীর্ণ এলাকা ভাসছে শনিবার দুপুর পর্যন্ত। মহানগরীর জলযন্ত্রণা নিয়ে যখন পুরসভার দিকে আঙুল উঠছে তখন পুরপ্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের নিশানায় প্রাক্তন সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ববি হাকিম বলেন, ‘কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে আমরা সেচ দফতরকে গত তিন বছর ধরে লাগাতার বলে আসছি।
বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কলকাতা সংলগ্ন খালগুলোর একটা তালিকা তৈরি করে বারবার মন্ত্রীমশাইকে বলেছিলাম। মন্ত্রীমশাই দু-একটি জায়গায় লোক পাঠিয়ে ইনস্পেকশন করান। কিন্তু খাল সংস্কার হয়নি।’ তাঁর কথায়, ‘এবার আমাদের নিকাশি ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভাল জায়গায় রয়েছে। তার মধ্যেও কিছু কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টিতে জল জমেছে।
বেহালার কিছু অঞ্চল , যাদবপুর, টালিগঞ্জ এবং অন্যান্যা কিছু পকেটে। কয়েকটা জায়গায় মেট্রোরেল কাজ করছে। সেই কারণে জল যাচ্ছে না। বেশির ভাগ জায়গায় খাল সংস্কার না হওয়ার কারণেই এই বিপত্তি।’ মন্ত্রীমশাই বলতে শুভেন্দুর কথাই বুঝিয়েছেন ববি। কারণ তিনি গত তিন বছরের কথা উল্লেখ করেছেন। এই সময়ে শুভেন্দুই ছিলেন সেচ বিভাগের দায়িত্বে। আরও তাত্পর্যপূর্ণ হল, তার আগের কথা উল্লেখ করেননি পুরপ্রশাসক তথা পরিবহণমন্ত্রী। সেই সময়ে আবার সেচমন্ত্রী ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেচ দফতরের কাজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি দুর্নীতির তদন্তেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মমতা। আমফান পরবর্তী সময়ে যে বাঁধ নির্মাণ হয়েছিল, ইয়াসের ধাক্কায় কী ভাবে তা ভেঙে গেল তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বলেছিলেন, ‘বাঁধ বানাচ্ছি, আর ভেসে যাচ্ছে। জলের মতো টাকাও ভেসে যাচ্ছে। দিল্লি তো একটাকা দেয় না। সবটা তো আমাএরই করতে হয়।’ শুধু তাই নয়। ইয়াস বিধ্বস্ত পুর্ব মেদিনীপুরের তাজপুর পরিদর্শনে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেচ দফতর ও দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের কাজ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন।
বলেছিলেন, জেলার উন্নয়নের জন্য একজনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আর তিনি মানুষকে বিপদে ফেলে নিজের পরিবারের উন্নতি করেছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না অভিষেক কার বা কোন পরিবারের কথা বোঝাতে চেয়েছিলেন। থেমে নেই শুভেন্দুও। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগে সরব হওয়ার পাশাপাশি তিনিও সদ্য বিজপি ছেড়ে যাওয়া মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করতে সক্রিয় হয়েছেন।
ভোটের আগে থেকেই বোঝা যচ্ছিল তৃণমূল-বিজেপির চেয়ে মমতা-শুভেন্দু কিংবা অভিষেক-শুভেন্দু লড়াই বেশি করে চড়া দাগে পৌঁছচ্ছিল। ভোটের পর তা আরও সপ্তমে গিয়েছে। সম্প্রতি নন্দীগ্রামে ভোটের ফলাফল নিয়ে মমতার আদালতে যাওয়া তাতে নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে। এসবের মাঝে দেখা গেল কলকাতার জলযন্ত্রণাতেও প্রাক্তন সেচমন্ত্রীকেই কাঠগড়ায় তুলতে চাইলেন ববি হাকিম।
কলকাতার পুর প্রশাসক আরও বলেন, ‘কলকাতার জলযন্ত্রণার কথা যখন মুখ্যমন্ত্রী জানতে পারলেন তিনি মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিলেন একটা উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করার। অর্থাত্ তিন বছর ধরে বলেও যে কাজটা সেচমন্ত্রী করেননি, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দ্রুত পদক্ষেপ হল। তাই আশা করছি ড্রেজিংয়ের কাজটা এই বছরের মধ্যে শেষ হলে এবছর যে সমস্যা হয়েছে সেটা আগামী বছর সমাধান হয়ে যাবে।
সূত্র : দ্য ওয়াল



