কথা না বলেই জগৎজোড়া জনপ্রিয়তা তাঁর

খাবানে লামে যিনি একজন জনপ্রিয় টিকটকার। কোনও কথা না বলেই তিনি অতি সহজে দৈনন্দিন জীবনের কাজকে সমাধান করে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না এই টিকটকারের পরিচয় কি, কোথায় তার বাড়ি? এর আগে তিনি কি করতেন।
জনপ্রিয় টিকটকার হিসেবে উঠে আসার পেছনে খাবানে লামের জীনের গল্প তুলে ধরেছে মার্কিন জনপ্রিয় পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। তার এক দীর্ঘ সাক্ষাতকার প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। সেখানে থেকেই চৌম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-
উত্তর ইতালির শহর কিবাসোর এক কারখানায় কাজ করতেন খাবানে লামে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তিনি তার কাজটি হারিয়ে বেকার হয়ে যান। তারপরই চলে যান তার মা-বাবার কাছে। নতুন কাজ নেওয়ার জন্য বাবা চাপ দিলেও খাবানে লামে সে কথায় কান না দিয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপস টিকটকে ভিডিও বানাতে শুরু করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তিনি সেখানে ব্যয় করেন।
ভিডিও বানানোর শুরুতে তিনি সাবটাইটেল হিসেবে ইতালির ভাষা ব্যবহার করতেন কিন্তু তার সে ভিডিও তাকে জনপ্রিয়তা এনে দেয়নি। এরপর তিনি তার এক বন্ধুর পরামর্শে নতুনভাবে ভিডিও বানোনো শুরু করে।
টিকটকে ডুয়েট এবং স্টিচ নামে দুটি অপশন খুদে ভিডিও নির্মাতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। ডুয়েটে মূল নির্মাতার ভিডিওর সঙ্গে নতুন ভিডিও যুক্ত করা যায়। দুটি একই সঙ্গে পাশাপাশি চলে। আর স্টিচে মূল ভিডিও দেখানোর পর নির্মাতা তার ভিডিও যুক্ত করেন। খাবি লামে এই দুই অপশন ব্যবহার করে ভিডিও বানাতে শুরু করেন।
ভিডিও বানানোর শুরুতে তিনি ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো অনুসরণ করেন। এরপর মূল ভিডিওতে দেখানো একই কাজ নিজের মতো করে কত সহজভাবে করা যায়, তা দেখাতে শুরু করেন ফলোয়ারদের। টিকটক ব্যবহারকারীরাও সাদরে গ্রহণ করলেন খাবি লামের মজার ভিডিওগুলো।
কখনো কলার খোসা ছাড়িয়ে দেখান। কখনো মোজা পায়ে দেন। কখনো টিউব থেকে টুথপেস্ট বের করেন। নির্বাক সে ভিডিওগুলোতে ২১ বছর বয়সী খাবি লামে কিছু বলেন না ঠিকই, তবে অভিব্যক্তি দিয়েই যা বোঝানোর বুঝিয়ে দেন—‘এমন সহজ কাজটিও পারো না?’ যেন তিনি টিকটকের মুশকিল আসান বাবা। সব সমস্যার সমাধান তার কাছে।
বর্তমানে এই টিকটকারের ফলোয়ার রয়েছে ৬ কোটি ৫৬ লাখ। প্রতি নিয়ত তার অনুসারীর সংখ্যা বাড়ছে। যদি এ ধারা চলতে থাকে তাহলে খাবি লামেই হবেন পৃথিবীর শীর্ষ টিকটকার। বর্তমানে শীর্ষে আছে চার্লি ডামেলিও। টিকটকে ১৭ বছরের এই তরুণীর অনুসারীর সংখ্যা ১১ কোটি ৭৯ লাখ।
অনেকেই তার ভিডিও কপি করে টিকটকে লাইক ও ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়িয়েছে। পৃথিবীর সব দেশেই তার অনুসারী রয়েছে। বাংলাদেশেও দিনকে দিন বাড়ছে তার অনুসারীর সংখ্যা। অনেকেই ভিডিও বানাতে তাকে অনুসরণ করছেন।
খাবি লামে আন্তর্জাতিকভাবে ‘ইতালীয় টিকটকার’ হিসেবে সমাদৃত হলেও তিনি ইতালীয় হিসেবে স্বীকৃত নন। তিনি মূলত সেনেগালের নাগরিক। অথচ এক বছর বয়স থেকেই ইতালিতে বসবাস করে আসছে খাবি লামে।
তার প্রকৃত নাম খাবানে লামে। কিন্তু টিকটকে তিনি খাবি নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস।



