‘মহাপুরুষ শ্যামাপ্রসাদের চরণে শতকোটি প্রণাম ‘, পোস্ট তথাগতর

আজ ২০শে জুন,বিজেপির দাবি এই দিনটি সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। বেশ কয়েক বছর ধরে বিজেপি দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। আজ পশ্চিমবঙ্গ দিবস কেন পালন করা হয় এই দিনটির তাত্পর্য বা কি? তা বিস্তারিত ভাবে জানালেন বিজেপির বর্ষিয়ান নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়।
তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন,
তিনি লিখেছেন, আজ 20শে জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবস। সেটা আবার কি? সেটা আমাদের অনেকেই জানিনা, কারণে ইতিহাসটা লিপিবদ্ধ হয়নি। ১৯৪৭ সালের মার্চ মাস নাগাদ কংগ্রেস নেতৃত্ব বৃন্দ ভারত ভাগ স্বীকার করে নিলেন।কেন নিলেন? কারণ ১, ক্ষমতার লোভ ২, মাউন্টব্যাটেনের কূটনীতি ৩, জিন্নার প্রবল ইচ্ছাশক্তি।
একবার ভেবে দেখলেন না সীমান্তের ওপারে ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তানের যেসব হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান তাদের কি হবে। সে সময় অবিভক্ত বাংলা ছিল ৫৫% মুসলিম ৪৫% ছিল হিন্দু।
মুসলিমদের দাবি তুলল যে গোটা বাংলা পাকিস্তানকে দিতে হবে। এটা হলে, আসামও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত এবং কালক্রমে সেটা পাকিস্তানে চলে যেতে। কিন্তু এই চক্রান্ত বিফল হলে শুধু একজন মানুষের জন্য যার নাম শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।
তিনি তার বিশাল রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি দিয়ে বুঝতে পেরেছিলেন ইসলামী পাকিস্তান হিন্দুদের জন্য নরকে পরিণত হবে।সেজন্য তিনি দাবি করলেন ভারত ভাগ করল বাংলাকে ভাগ করে বাংলার হিন্দু প্রধান অঞ্চল গুলি নিয়ে একটা ‘পশ্চিমবঙ্গ’ সৃষ্টি করতে হবে যা হবে হিন্দুপ্রধান ভারতের অংশ।এ বিষয়ে প্রচার করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ সারাবাংলা চষে বেড়ালেন এবং কংগ্রেসের সমর্থন পেলেন।
সেই সময়কার বাঙালি হিন্দু মনীষীরা, যেমন সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, যদুনাথ সরকার, রমেশচন্দ্র মজুমদার ইত্যাদিরা তাঁকে অকুণ্ঠ সমর্থন করলেন। করেননি শুধু নেতাজির অগ্রজ শরত্চন্দ্র বসু। কিন্তু সে অন্য কাহিনী। এই সমর্থনে জোরে বঙ্গীয় আইনসভা বাংলা ভাগ করার প্রস্তাব পাশ করল। সেদিনটা ছিল 20 শে জুন ১৯৪৭। সেই পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল বলে আমরা বাঙালি হিন্দুরা নিজেদের ভূমি পেয়েছিলাম।
ইসলামী রাষ্ট্রে জিম্মি হয়ে থাকতে হয়নি। তাই এই দিনটিতে এই মহাপুরুষ শ্যামাপ্রসাদের চরণে শতকোটি প্রণাম। অনেকেই কমেন্ট করেছেন তাঁর এই পোস্টটিতে, একজন লিখেছেন খুব সুন্দর লিখেছেন স্যার। আবার একজন লিখেছেন ২০শে জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস কিন্তু আদৌ কি সেই পশ্চিমবঙ্গ এখনও আছে প্রশ্নটা থেকেই যায়।
সূত্র : প্রথম কলকাতা



