
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে ফের রাজ্যকে নিশানা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এদিন বাগডোগরাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে ফের বক্তব্য রেখেছেন রাজ্যপাল। এদিন তিনি বলেছেন, ‘ভোটের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় লাগামছাড়া সন্ত্রাস চলছে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। গণতন্ত্রের ওপর আঘাত আসছে। দেশে স্বাধীনতার পর থেকে এমন অশান্তি দেখা যায়নি।’ এই ঘটনা নিয়েই বারবার সংবাদমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রীদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আর্জি জানিয়েছেন।
এই ইস্যু নিয়েই বেনজির ভাবে কখনও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে আলোচনা করেছেন। আবার দিল্লি গিয়ে রাষ্ট্রপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নালিশ করেছেন। আজ আবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে এই বক্তব্য রাখছেন রাজ্যপাল। এদিন তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের কর্তব্য। আমি চিন্তিত।
আমি উত্তরবঙ্গ, অসম, নন্দীগ্রামে গিয়ে অসহায়দের সঙ্গে কথাও বলেছি। এসব আমাদের ব্যবস্থায় প্রশ্নচিহ্ন তোলে। দেশ স্বাধীন হওয়ায় পর এইধরনের ভয়ানক ভোট পরবর্তী হিংসা দেখিনি।’ রাজ্যকে ফের নিশানা করে তিনি জানিয়েছেন, ‘অসহায় মানুষ ভয়ে এসব নিয়ে মুখ খুলতেও পারছেন না।
মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রীরা কেউ যাননি ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে। কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হল না। ভয়াবহ সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাজ্যসরকার কীভাবে থাকতে পারে? কেউ গ্রেফতার হলেন না কেন? আশা করব, রাজ্য সরকার আত্মসন্ধান করবে, ভাবনাচিন্তা করবে। সংবিধানের সঙ্গে এবং রাজ্যপাল ও কেন্দ্রের সঙ্গে এত বিরোধ কেন?’
আজকের হাইকোর্টের রায় নিয়েও রাজ্যপাল রাজ্যকেই খোঁচা দিয়ে বলেছেন, ‘ন্যায় ব্যবস্থা ও সংবিধান গুরুত্বপূর্ণ। সরকার, আইন ও আদালতের সমন্বয় থাকা উচিত। আমি দিল্লী যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীকে এসব নিয়ে লিখেছিলাম। সরকার বলছেন কিছুই হয়নি। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।
তদন্ত নিয়ে তর্ক করা উচিত না। হোক না তদন্ত। কেউ নিজেকে তদন্তের বাইরে ভাবলে বিপদ হবেই।’ যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলের তরফে কিছুই জানানো হয়নি। ভোটের পর কার্যত বেনজির ভাবে রাজ্যকে না জানিয়ে এই নিয়ে দু’বার উত্তরবঙ্গ সফরে গেলেন রাজ্যপাল। নিজেকে সংবিধানের রক্ষাকর্তা বলা রাজ্যপাল, যেখানেই যাচ্ছেন বিজেপি কর্মীদের বা তাদের পরিবারের লোকেদের সঙ্গে দেখা করতেই যাচ্ছেন।
সূত্র : এই মুহুর্তে



