রাজ্য

কলকাতা হাইকোর্টে বিনয় মিশ্রের ভার্চুয়াল শুনানির আবেদনের বিরোধিতায় সিবিআই

কলকাতা হাইকোর্টে বিনয় মিশ্রের ভার্চুয়াল শুনানির আবেদনের বিরোধিতায় সিবিআই - West Bengal News 24

গরু ও কয়লা পাচার কাণ্ডে নয়া মোড়। অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রকে হেফাজতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আর্জি জানানো সিবিআই। ভার্চুয়াল শুনানির পরিবর্তে মুখোমুখি জেরায় বসার আর্জি জানিয়েছে সিবিআই। বিনয় মিশ্রের দেশে ফেরার ক্ষেত্রেও শর্ত রেখেছেন সিবিআই-র আইনজীবী। তদন্তে সহায়তা করলে রেড কর্ণার নোটিশ থেকে মিলবে রেহাই। করা হবে না গ্রেফতারও।

সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে মামলার শুনানির সময় বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে সিবিআই-এর আইনজীবী ওয়াই জে দস্তুর বলেন, ”আমরা ভার্চুয়াল শুনানিতে রাজি নই। কারণ ভিডিও কনফারেন্সে শুনানির সময় অভিযুক্তের থেকে সঠিক উত্তর না পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।” তাঁর মন্তব্য, ”১২ জুলাইয়ের মধ্যে বিনয় মিশ্র দেশে ফিরে তদন্তে সহযোগিতা করুন।

সে ক্ষেত্রে রেড কর্নার নোটিশ প্রত্যাহার করা হবে। থাকবে না গ্রেফতারি পরোয়ানাও।” যদিও বিনয় মিশ্রের আইনজীবী মিলন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির তাঁর মক্কেল ভার্চুয়াল শুনানিতে সম্মত রয়েছেন।”

এই প্রসঙ্গে সিবিআই জানিয়েছে, “অভিযুক্ত দেশে থাকলে ভার্চুয়াল শুনানির কথা ভাবা যেত। কিন্তু তিনি বিদেশে গিয়ে আত্মগোপন করে আছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।” সিবিআই আইনজীবী দস্তুর বলেন, ”বিনয়ের দু’টি ভোটার কার্ড। দুইয়ের বেশি পাসপোর্ট। তাঁকে ভিডিও কনফারেন্স-এর অনুমতি দেওয়া যেতে পারে না।

কারণ, তিনি কোথায় রয়েছেন তা কেউ জানেন না। আদতে ভারতের বাসিন্দা নন তিনি। ভিডিও কনফারেন্স হলে সহজেই তিনি উত্তর এড়িয়ে যাবেন।” সোমবার সিবিআই বিচারপতির কাছে কিছু সময় চাইলে তিনি জানান, অন্তর্বতী নির্দেশের জন্য অনন্তকাল সময় দেওয়া সম্ভব নয়। মামলার শুনানি মঙ্গলবার হবে বলে জানান তিনি। বিনয়ের আর এক আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সোমবার আবার জানান, ”আত্মসমর্পণ না করলে ভিডিও কনফারেন্স-এর অনুমতি দেওয়া বেআইনি।”

প্রসঙ্গত, কোভিড পরিস্থিতির কারণে চলতি মাসে কলকাতা হাই কোর্টের কাছে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলার শুনানির অনুমতি চেয়েছিলেন গরু ও কয়লা পাচার-কাণ্ডের অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র। সেই সঙ্গে অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদও বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন বিনয়ের দুই আইনজীবী অভিষেক এবং সিদ্ধার্থ লুথরা। হাই কোর্টে অভিষেক বলেন, ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে অন্য দেশের বাসিন্দা বিনয়। সিবিআই তারপর মামলা করেছে। সিবিআইয়ের দু’টি এফআইআর-এ বিনয় মিশ্রের নামই ছিল না।

সিবিআই সূত্রের খবর, বিনয় বর্তমানে প্রশাম্ত মহাসাগরের এক দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুতে রয়েছেন। সিবিআই ইন্টারপোলের কাছে বিনয়ের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারির আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু এখনও তা কার্যকর হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি সিবিআই-এর আইনজীবীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ভার্চুয়াল শুনানিতে তদন্তকারী সংস্থা সম্মত আছে কি না।

উল্লেখ্য, বিনয় মিশ্র মামলায় সিবিআই যে তদন্ত করছে তা গরু পাচার কান্ডে জে ম্যাথ্যু নামে এক বিএসএফ আধিকারিককে গ্রেফতারের পর শুরু হয়। জে ম্যাথ্যুকে গ্রেফতারের পর গরু পাচার-কাণ্ডে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে সিবিআই। বিনয়ের নাম উঠে আসে তারপরই।

সূত্র : এই মুহুর্তে

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য