সবথেকে বেশি সন্তানের জন্ম দেওয়া মা-বাবাদের দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা, ঘোষণা মিজোরামের মন্ত্রীর

অসমে দুই সন্তান নীতি চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশও সেই রাস্তায় হাঁটতে চলেছে। কিন্তু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই হিড়িকের মাঝেই উল্টো পথে হাঁটা শুরু করল মিজোরাম। সত্যিই যেন উলটপুরাণ! এক দেশে দুই ভিন্ন নীতি, দুই ভিন্ন ভাবনা।
মিজোরামের এক মন্ত্রী সম্প্রতি বেশি সংখ্যক সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ১ লক্ষ টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করেছেন। বলা হয়েছে যে মা-বাবার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সন্তান থাকবে তাঁরা পুরষ্কার হিসেবে ১ লক্ষ টাকা পাবেন। টাকা দেবেন ওই মন্ত্রী। কেন এই ঘোষণা? কেন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের হিড়িকের মাঝে এই উলটপুরাণ? বস্তুত, ২০২৫ সালের পর ভারতে লোকসভা এবং বিধানসভার সংখ্যা এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। তার মাপকাঠি হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির জনসংখ্যা।
গত বছরের জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রজননে সক্ষম মহিলাদের মাথাপিছু সন্তান সংখ্যায় জাতীয় গড়ের থেকে পিছিয়ে আছে মিজোরাম। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির দিকেই এখন নজর দিচ্ছে সে রাজ্যের সরকার। মিজোরামের ক্রীড়ামন্ত্রী রবার্ট রোমাইয়া রয়তে এই ঘোষণাটি করেছেন বটে। কিন্তু তিনি সন্তান সংখ্যার কোনও সর্বনিম্ন মাপকাঠি উল্লেখ করেননি।
মিজোরামে বেশিরভাগই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ রয়েছেন। ছোটোখাটো মিজো কমিউনিটি আরও বাড়ানোর জন্য তাই উদ্যোগী সরকার। ক্রীড়ামন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, যে কোনও জীবিত দম্পতি, যাঁদের সন্তান সংখ্যা সর্বোচ্চ তাঁরা ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার পাবেন। তবে তাঁর সংসদীয় এলাকা আইজল পূর্বতেই এই ঘোষণা কার্যকর হবে।
শুধু টাকাই নয়, ওই ‘বিজয়ী’ দম্পতিকে ট্রফি এবং সার্টিফিকেটও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মিজোরামের ক্রীড়ামন্ত্রী আরও বলেছেন, সে রাজ্যে গর্ভপাতের হার এবং জনসংখ্যা হ্রাসের হার ইদানীং বেড়ে গিয়েছে। সরকার এ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় পর মিজো কমিউনিটিই আর থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। ২০১১ জনগণনা অনুসারে মিজোরামের মোট জনসংখ্যা মাত্র ১০ লক্ষ ৯১ হাজার ১৪ জন।
সূত্র : দ্য ওয়াল



