
ত্রিপল চুরির মামলায় অস্বস্তি কাটল না শুভেন্দু অধিকারী ও সৌমেন্দু অধিকারীর। মামলা খারিজের আবেদন জানিয়ে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বরস্থ হয়েছিলেন। শুক্রবার এই আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থগিতাদেশ দেয়নি হাইকোর্ট। ফলে আপাতত তাঁদের তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। শুভেন্দুর আইনজীবী সওয়াল করেন, কাঁথিতে ত্রিপল চুরির ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারী কোনওভাবেই জড়িত নন।
সৌমেন্দু কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান থাকলেও ডিসেম্বর মাসে পদ থেকে সরে যান। আইনজীবী আরও বলেন, কন্টাইয়ের অফিসে কিছু লরি জোর করে ঢুকেছিল সেদিন। এর সঙ্গে শুভেন্দু বা সৌমেন্দুর কোনও যোগ নেই। বিচারপতি এই সওয়াল শোনার পরে সরকারি কৌঁসুলির কাছে জানতে চান, তদন্ত কতটা এগিয়েছে। তাতে সরকারপক্ষের কৌঁসুলি বলেন, তদন্ত চলছে। একজন গ্রেফতার, একজন নিখোঁজ।
মামলার কেস ডায়রিও এসেছে। এই সওয়াল শোনার পরে বিচারপতি কোনও স্থগিতাদেশ দেননি। তিনি জানান, আরও কিছুটা সময় লাগবে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে মঙ্গলবার। কাঁথি পুরসভার ত্রিপল চুরিতে মদত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর ভাই তথা কাঁথি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান সৌমেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ ছিল, কাঁথি পুরসভার গোডাউন থেকে লরিতে চাপিয়ে ওই ত্রিপলগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এতে পুরসভার দুই কর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয়। নাম জড়ায় দুই অধিকারী ভাইয়ের। গত ২৯ মে এই মর্মে তাঁদের নামে কাঁথি থানায় এফআইআর দায়ের হয়। এফআইআর করেন ওই পুরসভারই প্রশাসনিক বোর্ডের সদস্য রত্নদীপ মান্না।
এই ঘটনায় পুরসভার এক কর্মী প্রতাপ দে-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারি আশঙ্কা তৈরি হয় শুভেন্দু ও সৌমেন্দু অধিকারীরও। ফলে আগাম সতর্কতা হিসাবে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। ওই এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তাঁরা। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায় আদালতে।
কেস ডায়রি এসে না পৌঁছনো অবধি আবেদন শুনতে চাননি বিচারপতি। এবার ফের ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হল না। এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী ও সৌমেন্দু অধিকারীর কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য ওয়াল



