নতুন বিজেপিতে আসা নেতারা ভাঙছেন সঙ্ঘের রীতি! কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে নালিশ

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপিকে ছড়িয়ে দিতে, তার প্রভাব বাড়াতে আর সেখানকার শাসন ক্ষমতা দখল করতে গেরুয়া শিবিরের অস্ত্র ভিন্ন মতাদর্শের রাজনৈতিক দলগুলি থেকে নেতা আর কর্মীদের ভাঙানো। সেই পথেই বিজেপি মোদি জমানায় সাফল্যের মুখ দেখেছে ত্রিপুরা, অসম, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে।
বাংলাতেও তাঁরা কার্যত এই পথেই হাঁটা দিয়েছিল। সন্দেহ নেই তাতে কিছুটা হলেই তাঁরা সাফল্যের মুখ দেখেছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন ও একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসন তাঁদের ঝুলিতে গিয়েছে। কিন্তু যে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে ভিন্ন দলের নেতাকর্মী থেকে মন্ত্রীদের পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছিল সেই লক্ষ্যই কার্যত অধরা থেকে গিয়েছে।
বাংলার ক্ষমতার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারেনি বিজেপি। কিন্তু এখন অন্য বিপদ এসে দাঁড়িয়েছে সঙ্ঘের সামনে, অন্তত এই বাংলাতে। দলে আসা নব্য বিজেপির নেতারা নাকি সঙ্ঘের প্রতি নকল আনুগত্য দেখাতে গিয়ে সঙ্ঘের ঘোষিত লাইন ভেঙে দিচ্ছেন। এবার এমনই অভিযোগ নাকি আরএসএসের থেকে জমা পড়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে।
অভিযোগ, বাংলায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতারা এখন নিজেদের আরএসএসের ঘনিষ্ঠ প্রমাণ করতে গিয়ে সঙ্ঘের রীতিনীতি ভেঙে বসে থাকছেন। সঙ্ঘ ব্যক্তিপূজার বিরোধী হলেও কয়েকজন নবাগত বিজেপি নেতা যেমন সেটা করছেন তেমনি ভার্চুয়াল বৈঠকের সময় চেয়ারে বসে সঙ্ঘের প্রার্থনাও আবৃত্তি করছেন।
আরএসএস শিবিরের বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, এই দুটি ঘটনাই সঙ্ঘের কাছে মর্যাদাহানিকর। কিন্তু এদের কিছু বলতে পারছেন না সঙ্ঘ নেতারা। কেননা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এদের শুধু ছাড় দিয়েই রাখেনি বরঞ্চ মাথায় তুলে ধেই ধেই করে নাচছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে প্রথমে কিছু না বললেও পরে অমিত শাহের কাছে সঙ্ঘও নালিশ জানাতে বাধ্য হয়েছে। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু ক্ষেত্রে সঙ্ঘের নজরে এটাও এসেছে এ এই নব্য বিজেপির নেতারাই কার্যত বাংলায় দলের অন্দরে ছড়ি ঘোরাতে শুরু করে দিয়েছেন।
বেশ কিছু ক্ষেত্রে দলের পুরানো নেতারা তো কদরই পাচ্ছেন না উপরন্তু এই নব্য নেতারা দলের রাজ্য সভাপতিকেও পাত্তা দিচ্ছেন না। তাঁকে না জানিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা না বলেই নিজেদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গ বিজেপির অন্দরে এখন কার্যত ক্ষমতার নানা কেন্দ্র তৈরি হয়ে গিয়েছে যা নাপসন্দ সঙ্ঘ নেতাদের।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা শুভেন্দু, সৌমিত্র, অর্জুন, নিশীথরা অনেক সময় দলের রাজ্য সভাপতি বা দলের রাজ্য নেতৃত্বকে না জানিয়েই যা খুশি বলছেন, যা খুশি করছেন। এই বিষয়টি সঙ্ঘ মোটেও ভালো চোখে দেখছে না। এই বিষয়েই অমিত শাহকে তাঁরা অভিযোগ জানিয়েছে।
আরও স্পষ্ট করে বললে এটা পরিষ্কার যে সঙ্ঘ শুভেন্দু-দিলীপ দ্বৈরথে দিলীপের পক্ষেই থাকার ইঙ্গিত দিয়ে দিল। এখন দেখার বিষয় বঙ্গ বিজেপিতে এই শিবির বিভাজন আগামী দিনে দলকে কোন জায়গায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করায়। দিলীপ নিজে থেকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান নাকি দলের শীর্ষ নেতৃত্বই শুভেন্দুর ডানা ছাঁটতে উদ্যোগী হন।
সূত্র: এই মুহুর্তে



