
কসবা কান্ডকে কেন্দ্র করে যখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে আদৌ কী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল সেটা জানতেও যখন তত্পরতা তুঙ্গে। যখন ইতিমধ্যেই কসবায় ভুয়ো ভ্যাকসিনেশন কেন্দ্রে দেওয়াই হয়নি কোভিশিল্ড কিংবা কোভ্যাক্সিন। কসবা প্রতারণা কাণ্ডে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছে কলকাতা পুরসভা।
যখন জানা যাচ্ছে, যা দেওয়া হয়েছে তা অ্যামিকাসিন নামে এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। যা মূলত পেটের রোগ নিরাময় ব্যবহার করা হয়। সেই সময় দাঁড়িয়ে এই বিষয় মুখ খুললেন বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। একজন কোভিড রোগী হিসেবে তিনি জানান, ‘কোভিড একটি অজানা মারণ রোগ। সেইজন্য এই রোগকে নিয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।’
ভুয়ো ভ্যাকসিন কান্ডের মূল পান্ডা দেবাঞ্জন দেব সম্পর্কে ভিডিও বার্তায় জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তিনি আইএএস অফিসার বলে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন নীল বাতি লাগানো গাড়ি চলেছেন। এবং যারা এখন সরকারে আছেন সেরকম বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে উনি একটা কসবাতে ক্যাম্প করেছিলেন।
এবং ক্যাম্প করে উনি ভ্যাকসিন দিচ্ছিলেন। সেখানে প্রচুর লোক ওকে বিশ্বাস করে ওই ক্যাম্পে গিয়ে ভ্যাকসিন নিচ্ছিলেন। কিন্তু তারপর জানা গেল ছেলেটা একেবারে জালি। অদ্ভূত কান্ড সে বড়বাজার থেকে অ্যামিকাসিন ৫০০ নিয়ে এসে কোভিশিল্ডের মোড়কে মুড়ে ওই গুলো ভ্যাকসিন হিসেবে দিচ্ছিল। এবং দুর্ভাগ্যবশত তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীও সেই ভ্যাকসিন নেন।’ তাঁর মন্তব্য, ‘মানুষের লোভ কোথায় চলে গিয়েছে।
ক্যান্সার সারানো যায় কিন্তু লোভ সারানো যায়না। তাই আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করব আপনারা মানুষের আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা নিয়ে ২১৩ টা আসন নিয়ে আপনারা বাংলায় তৃতীয়বারের জন্য সরকার গড়েছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আপনাদের কিন্তু এবার মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। মানুষকে বিশ্বাস ফিরিয়ে দেবার পালা। মানুষকে ভালো সরকার ফিরিয়ে দেওয়ার পালা।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। বিদ্যা ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। মানুষ যাতে হেসেখেলে থাকতে পারে তা ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। আপনারা এই সব ভুয়ো লোককে চিহ্নিত করে এদের বড় শাস্তি দিন। জেলে দিন। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন যাতে এরকম দুর্নীতি করতে লোকেরা যেন দশবার ভাবে।’
‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি যাদের যাদের শরীরে লোভ ঢুকে গেছে লোভ বার করুন। নয় এই লোভীদের তাড়িয়ে দিন।’ অনুরোধ জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের সরকারকে অনেকে ভালোবেসে এনেছে। আপনারা চেষ্টা করুন তাদের ভালোকিছু করার ভালো কিছু দেওয়ার। আর যদি না হয়, বিজেপি বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করেছে আরও বৃহত্তর আন্দোলন হবে, তখন আপনারা সমস্যায় পড়বেন।’ বলে হুঁশিয়ারিও শোনা যায় জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়।
সুত্র : প্রথম কলকাতা



