রাজনীতিরাজ্য

“রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ হলেই আদালতে মামলা”, বিরোধীদের আক্রমন মমতার

“রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ হলেই আদালতে মামলা”, বিরোধীদের আক্রমন মমতার - West Bengal News 24

৩৫ হাজার ছেলেমেয়ে চাকরির সব তৈরি। ঠিক এই সময়ে আবার কোর্ট কেস। কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর। তা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগের সুরে প্রশ্ন তুলে দিলেন, ‘নিয়োগ শুরু হলেই আদালতে মামলা করে বসে, এই ছেলেমেয়েগুলো আর কতদিন অপেক্ষা করবে?’

গত ২১ জুন রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশ করতেই এমন অভিযোগ তোলেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। পরবর্তীতে তারাই একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দ্বারস্থ হয় হাইকোর্টের। বুধবার ওই মামলার শুনানিতে বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে কিনা তা জানাতে হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। আগামী ৯ জুলাই তা হাইকোর্টকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

ততক্ষণ পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন নবান্নের সাংবাদিক সম্মেলনে উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ মামলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৩৫ হাজার ছেলে মেয়ের চাকরির সব তৈরি। হঠাত্‍ আবার কোর্ট কেস! যখনই নিয়োগ হচ্ছে আদালতে খালি মামলা হচ্ছে। রিক্রুটমেন্ট শুরু হলেই আদালতে মামলা করে বসে আছে। এই ছেলে মেয়েগুলো কতদিন অপেক্ষা করবে!’ কিছুক্ষণ থেমে তিনি হঠাত্‍ বললেন, ‘এখন কিছু কোর্টবাবু হয়েছেন।’

বিরোধীদের নিশানা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’আদালতের উপর আমার আস্থা আছে। চাকরিপ্রার্থীদেরও দোষ নেই। কিছু রাজনৈতিক নেতা বসে আছে খুঁত বার করার জন্য। ছেলেমেয়েরা চাকরি পায়, তা চায় না। নিয়োগের কথা উঠলেই গিয়ে মামলা করে দিচ্ছে ‘।

গতকালই এসএসসি জানিয়েছিল আগামী মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে কাউন্সিলিংয়ের নির্ঘণ্ট। সেই মতোই গত ২১ জুন ১৪ হাজার ৩৩৯ জন চাকরি প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। এর আগে বেনিয়মের অভিযোগে মেরিট লিস্ট বাতিল করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই মেরিট লিস্ট সম্পূর্ণ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য।

তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন পুজোর আগেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু এদিন হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশে ফের ধাক্কা খেল নিয়োগ প্রক্রিয়া। ফলে দীর্ঘ বছর পর যেসব প্রার্থীরা চাকরির আশায় ছিলেন, তারা এখন সিঁদুরে মেঘ দেখছেন।

সূত্র : এই মুহুর্তে

আরও পড়ুন ::

Back to top button