
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের আসন্ন রাজ্য বাজেট অধিবেশনে রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া বাজেট বক্তৃতা পড়তে অনীহা প্রকাশ করাকে তীব্র কটাক্ষ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। অধীর বাবু বলেন, ‘রাজ্যপাল হয়ত বিতর্ক তৈরি করে নিজেকে খবরের শিরোনামে রাখবার চেষ্টা করছেন। রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের ফলে পরম্পরা এবং ঐতিহ্য নষ্ট হবে বলে অধীর চৌধুরী মন্তব্য করেন। রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পড়তে বাধ্য বলেও অধীর চৌধুরী জানান।’
লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “চিরাচরিত প্রথা মেনে রাজ্যপালের কর্তব্য রাজ্য সরকার তাকে যা লিখে দেবে সেটাই তাকে পড়তে হবে। এখন যদি রাজ্যপাল প্রশ্ন করেন এটা সংবিধানের লেখা রয়েছে কিনা তাহলে আমি বলব এটা সংবিধানের লেখা নেই। তবে রাজ্য বা দেশের আইনসভা শুধুমাত্র সংবিধান মেনে চলতে পারে না। সেক্ষেত্রে তাদেরকে কিছু প্রথা, রীতি এবং প্রটোকল মেনে চলতে হয়।”
অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিজের প্রয়োজনে কখনও প্রথা মানেন আবার কখনও তা মানতে অস্বীকার করেন। তার এই দ্বিচারিতা ঠিক নয়। একটি নির্বাচিত সরকার গত বছরে কি কি ভাল কাজ করেছে এবং আগামী দিনে তারা কি কি কাজ করতে চায় তার একটি রূপরেখা তারা লিখিতভাবে রাজ্যপালকে দেবে এবং সেটি তাকে বিধানসভাতে পড়তে হবে।
রাজ্যপালের বক্তব্যের উপর পরবর্তীকালে বিতর্ক হতে পারে এবং বিরোধী পক্ষ রাজ্যপালের বক্তব্যের সংশোধনী চাইতে পারে। কিন্তু রাজ্যপাল যদি রাজ্য সরকারের লিখিত ভাষণ পড়তে অস্বীকার করেন তাহলে তা নিয়ম এবং প্রথাবিরুদ্ধ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।”
অধীর বাবু উদাহরণ দিয়ে বলেন, “সংবিধানের রাজা হিসেবে পরিচিত ভারতবর্ষের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে মোদি সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পড়তে হয়েছিল। দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতিও বর্তমান সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পড়েছেন।”
অধীর চৌধুরী বলেন,”তাই আপনাকেও (রাজ্যপাল) রাজ্য সরকার যা লিখে দেবে সেই ভাষণই পড়তে হবে। সাংবিধানিক ব্যবস্থাতে অনেক কিছুই লেখা থাকেনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই প্রথা, ‘কনভেনশন’, ‘প্রেসিডেন্ট’, ‘প্রটোকল’ এগুলির উপর নির্ভর করে চলে। আপনি সব জানেন, কিন্তু তাও আপনি অহেতুক বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছেন।”
প্রসঙ্গত, সাংবিধানিক বিধি মেনে তৃণমূল সরকারের তৈরি করে দেওয়া ভাষণের খসড়া আগামী ২ জুলাই বিধানসভায় পড়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে অনীহা জানিয়েছেন রাজ্যপাল। তাঁর অভিযোগ রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ভাষণের খসড়ায় যা লেখা রয়েছে, তা সত্য নয়।
সূত্র : আজকাল



