
এ যেন এক দল, এক পোশাক! ব্যাপারটা প্রথম দেখা গিয়েছিল বিজেপি বিধায়করা যেদিন বিধানসভা থেকে হেঁটে রাজভবন গেলেন। সাদা কুর্তা-পাজামার সঙ্গে গলায় ঝুলছে গেরুয়া উত্তরীয়। গতকাল শুক্রবার বিধানসভার দেখা গেল আরও একটা জিনিস যোগ হয়েছে। সব বিধায়কের কপালে গেরুয়া টিকা। তারপর বিজেপি সূত্রে জানা গেল, পোশাক বেঁধে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় গেলে প্রত্যেক বিধায়কের কপালে গেরুয়া টিকা মাস্ট। সঙ্গে গলায় উত্তরীয়।
আর পুরুষ বিধায়কদের পরতে হবে সাদা কুর্তা-পাজামা। একটা সময়ে কংগ্রেসের মধ্যে খাদি-খদ্দর পরার চল ছিল। সঙ্গে গলায় থাকত তেরঙা উত্তরীয়। নেহরু টুপিরও চল ছিল অতীতে। তাতে দলীয় কোনও নির্দেশ ছিল না। গান্ধীবাদী দর্শন থেকেই সেসব করতেন কংগ্রেস নেতারা। যদিও এখন আর সেসব দেখা যায় না। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, পোশাকের মধ্যে দিয়েই বিধানসভা অধিবেশনে সনাতনী দর্শন তুলে ধরতেই এমন বিধি বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এ ভাবে এক পোশাকে বিধানসভায় আসার ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মত অনেকের। গতকাল বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের পোশাকে ছিল বৈচিত্র্যে ভরা। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। সাদা ধুতি পাঞ্জাবির চকচকে রুপোলি জুতো। সেটা আবার কিছুটা ঢাকা খরমের মতো দেখতে। সকলের চোখ টেনে নিয়েছিলেন মদন। কিন্তু বিজেপি বিধায়কদের পোশাকের মধ্যে কোনও বৈচিত্র্য দেখা যায়নি।
উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বিজেপির মধ্যে আবার গলায় রিসা নেওয়ার চল রয়েছে। জনজাতি অংশের মানুষের সংস্কৃতির প্রতীক এই রিসা। যে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, মণিপুরের এন বীরেন সিংদের গলায় রিসা থাকেই থাকে। অন্যন্য মন্ত্রীদেরও তাই। যদিও পোশাকের ক্ষেত্রে কোনও বিধি নেই।
অনেকে শার্ট-প্যান্টের সঙ্গেও গলায় রিসা নিয়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। শনিবার কলকাতার হেস্টিংসের রাজ্য দফতরে বিজেপি বিধায়কদের কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। সকালে সেখানে ভাষণ দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বিধায়কদের বলেন আপনারা সবসময় দলের নির্দেশ, অনুশাসন মেনে চলবেন। মনে রাখবেন দলই আপনাদের বিধায়ক করেছে। দুপুরের পর সভায় যোগ দেন শুভেন্দু।
সূত্র: দ্য ওয়াল



