
একুশের ভোটযুদ্ধ যেন মিটেও মিটছে না। রেশ রয়েই গিয়েছে। রাজ্যের ৭টি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন নিয়ে এখন শাসক-বিরোধী দুই শিবিরেই জোর তরজা শুরু হয়েছে। তৃণ্নমূল চাইছে দ্রুত এই উপনির্বাচন করিয়ে নেওয়া হোক। আবার বিজেপির দাবি আগে করাতে হবে পুরনির্বাচন। কার্যত দুই শিবিরে এই নিয়ে দড়ি টানাটানি খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে তৃণমূল এই বিষয়টিকে মোটেও হালকা ভাবে নিচ্ছে না।
তাঁরা উপনির্বাচন নিয়ে বিজেপির পাশে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকেও বেশ চাপে রাখতে চাইছে। কেননা উপনির্বাচন নির্দিষ্ট সময়ে না হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রীত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। রাজ্য প্রশাসনে আইনি জটিলতা তৈরি হবে। সে কথা মাথায় রেখেই তৃণমূল দ্রুত উপনির্বাচন সেরে নেওয়ার পক্ষে।
সেই লক্ষ্যেই এদিন তাঁরা দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দ্রুত উপনির্বাচন করিয়ে নেওয়ার আর্জি জানিয়ে এসেছে। সেই আর্জি জানাবার পাশাপাশি এদিন মুখ্যমন্ত্রী নিজে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপিকে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘ভবানীপুরের অনেক ওয়ার্ডই এখন কোভিডমুক্ত। আমি ভবানীপুর নিয়ে কলকাতা পুরসভার একটা রিপোর্ট দেখছিলাম। অনেক ওয়ার্ডই কোভিডশূন্য। তাই ভবানীপুরে উপনির্বাচন করানো সম্ভব। শুধু ভবানীপুরই নয়, বাংলার সাতটি আসনেই উপনির্বাচন করানো উচিত। এর আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশন রাজ্যসভা ভোট করানো নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতামত চেয়েছিল।
তখন রাজ্য সরকারের তরফে আমরা জানিয়ে দিয়েছিলাম রাজ্যসভা তো বটেই। বিধানসভা ভোটের জন্যও আমরা তৈরি। উপনির্বাচন তো হবে একেকটা বিচ্ছিন্ন এলাকায়। তা ছাড়া গোটা রাজ্যেই কোভিড এখন অনেকটা কমে এসেছে। সংবিধান অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী ভোটের ফল প্রকাশের ছ’মাসের মধ্যে উপনির্বাচন করাতে হবে। ফলে আমরা বেআইনি বা অসাংবিধানিক কিছু চাইছি না। কিন্তু বিজেপি জানে, ওরা প্রতিটায় হারবে! তাই ওরা ভোট চাইছে না।’
মুখ্যমন্ত্রী এখন বিধায়ক নন। কিন্তু আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে তাঁকে বিধানসভায় জিতে আসতে হবে। ভবানীপুর থেকেই তাঁর লড়াই করার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু তৃণমূলের একাংশের আশঙ্কা, কৌশলগত ভাবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ৫ নভেম্বরের মধ্যে রাজ্যে উপনির্বাচন করাতে চাইছে না। সে ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হবে। রাজ্য সরকারও সেক্ষেত্রে অস্বস্তিতে পড়বে।
শাসক শিবিরের নেতাদের আরও উদ্বেগ যে, রাজ্যে করোনা পরিস্থিতির অবনতি দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন ভোট নাও করাতে পারে। তবে শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপির নেতারা চাইছেন আগে রাজ্যে পুরসভার ভোট করানো হোক। তার পরে বিধানসভা উপনির্বাচন করা যাবে। তাঁদের বক্তব্য, ‘রাজ্যে প্রচুর পুরসভায় ভোট বাকি।
দীর্ঘদিন সেখানে প্রশাসক বসিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। তার মধ্যে কলকাতা পুরসভাও রয়েছে। আগে ওই সমস্ত পুরসভায় ভোট করাক রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি বুঝে তার পরে না হয় উপনির্বাচন করানো যাবে।’ তবে এটাও ঠিক যে এখন বাংলার ৭টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হলে বিজেপির জেতা আসন দিনহাটা আর শান্তিপুরেও বিজেপিকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে। বাকি ৫টিতে তো তাঁদের জেতার কোনও সম্ভাবনাই নেই।
সূত্র : এই মুহুর্তে



