
আড়ি পেতে ফোনের কল রেকর্ড করা নিয়ে এখন জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে। তাঁর আঁচ পড়েছে বাংলাতেও। কিন্তু নিজ মুখে বড় দাবি করে এখন সেই ফোন রেকর্ড মামলাতেই কিছুটা বেকায়দায় পড়ে গেলেন রাজ্যের বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে গ্রেফতার করার দাবি তুললেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি টুইটে শুভেন্দুর নাম না নিয়ে বিরোধী দলনেতাকে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন।
LOP ( Limitless opportunist) প্রকাশ্যে পুলিশকে বলেছে ওর কাছে আমাদের নেতার দপ্তরের ফোনের কল লিস্ট, রেকর্ডিং সব আছে।
এটা ফোনে আড়ি পাতার প্রমাণ।@MamataOfficial, @abhishekaitcর কাছে অনুরোধ, অবিলম্বে তদন্ত শুরু করে ওর custody interrogationএর মাধ্যমে গোটা চক্রান্ত প্রকাশ্যে আনা হোক।— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) July 20, 2021
গতকাল তমলুকে দলের একটি বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি জেলার পুলিশ সুপারের নাম না করেই আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘এখানে একটি বাচ্চা ছেলে এসপি হয়ে এসেছেন। আমি তাঁকে বলতে চাই আপনি কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসার। এমন কাজ করবেন না যাতে কাশ্মীরের অনন্তনাগ বা বারমুলায় গিয়ে ডিউটি করতে হয়।
ভাইপোর অফিস থেকে যাঁরা ফোন করেন তাঁদের প্রত্যেকের কল রেকর্ড আমার কাছে রয়েছে। তাই সতর্ক হন। আপনাদের কাছে যদি রাজ্য সরকার থাকে, তবে আমাদের হাতে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।’ শুভেন্দুর এই হুমলি হাতিয়ার করেই এদিন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সরব হয়েছেন টুইটারে।
তিনি এদিন টুইট করে বলেছেন, ‘LOP (Limitless opportunist) প্রকাশ্যে পুলিশকে বলেছে ওর কাছে আমাদের নেতার দপ্তরের ফোনের কল লিস্ট, রেকর্ডিং সব আছে। এটা ফোনে আড়ি পাতার প্রমাণ। @MamataOfficial, @abhishekaitcর কাছে অনুরোধ, অবিলম্বে তদন্ত শুরু করে ওর custody interrogation এর মাধ্যমে গোটা চক্রান্ত প্রকাশ্যে আনা হোক।’
এলওপি’র অর্থ ‘লিডার অব অপোজিশন’ বা বিরোধী দলনেতা, যা শুভেন্দু অধিকারীর সরকারি পদ। শুভেন্দু নিজেও অনেক সময় নিজেকে এলওপি হিসাবেই পরিচয় দেন। কিন্তু এদিন এলওপি’র অর্থ হিসাবে কুণাল লিখেছেন ‘লিমিটলেস অপরচুনিস্ট’ অর্থাত্ অপরিসীম সুবিধাবাদী। সন্দেহ নেই এই আক্রমণের লক্ষ্য শুভেন্দুই।
সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, শুভেন্দু নিজের মুখেই যেহেতু স্বীকার করেছেন তাঁর কাছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনের কল রেকর্ড, তথ্য সব রয়েছে তাই তাঁকে গ্রেফতার করা হোক। কেননা এভাবে আড়ি পাতা রীতিমত অপরাধ। এখন দেখার বিষয় রাজ্য সরকার এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয় কিনা।
সূত্র : এই মুহুর্তে



