
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে নতুন করে আক্রমণ শানতে নয়া এক হাতিয়ার পেয়ে গিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি সেই হাতিয়ার নিয়েই এদিন আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্য সরকারকে।
পাশাপাশি তাঁর এই আক্রমণের জেরে প্রশ্নও উঠেছে, যে ঘটনাকে ঘিরে দিলীপ আক্রমণ শানিয়েছেন তা কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নয় তো? গোটা ঘটনাটাই বিজেপির মস্তিষ্ক প্রসূত নয়তো? সরকারি হাসপাতালের ডোম পদের জন্য যে সব উচ্চশিক্ষিত যুবক ও মহিলারা আবেদন করেছেন তাঁরা গেরুয়া শিবিরের নির্দেশে এই কাজ করেননি তো? তাই এই ঘটনাকে ঘিরে সিআইডি তদন্তের দাবিও উঠেছে রাজ্যের বেশ কিছু মহলে।
সম্প্রতি কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে ডোম পদের জন্য গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। যে পদের জন্য ওই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল তার নাম অবশ্য ল্যাবরেটরি অ্যাটেন্ডেন্ট। মোট পদের সংখ্যা ৬। মাইনে প্রতি মাসে ১৫ হাজার। পদটির জন্য আবেদনকারীদের বয়স সীমা দেওয়া হয়েছিল ১৮ বছর থেকে ৪০ বছর।
পদটির জন্য নূন্যতম যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেনী পাশ। পদটির জন্য আবেদন করার শেষ দিন ছিল গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর। দেখা যায় সেই সময়ের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার আবেদন জমা পড়ে ওই ৬টি পদের জন্য। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ১০০জন ইঞ্জিনিয়ার, ৫০০’ত বেশি স্নাতকোত্তর যুবক-যুবতী ও ২ হাজারেরও বেশি স্নাতক।
স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনা সামনে আসায় বেশ হইচই পড়ে যায়। এমনকি এটাও সামনে আসে যে, এই আবেদনকারীদের মধ্যে ৭৮৪জনকে আগামী ১ আগস্ট লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪জন আবার মহিলা।
এবার এই ইস্যুতেই রাজ্য সরকারকে এদিন আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, ‘যেখানে অষ্টম শ্রেণী পাশের যোগ্যতা লাগবে সেই ডোম পদে চাকরির জন্য একশোর বেশি ইঞ্জিনিয়ার, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ছেলেমেয়েরা আবেদন করছেন। তাহলে রাজ্যে চাকরি কোথায় হয়েছে? এ রাজ্যে বেকারত্বের হার ২৬ শতাংশ।
তাহলে আদৌ কীসে এগিয়ে বাংলা? ঋণে এগিয়ে বাংলা? রাজনীতি করতে গিয়ে, বিরোধিদের আটকাতে গিয়ে এই বেকার সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। রাজ্য রসাতলে যাচ্ছে অথচ মুখ্যমন্ত্রী প্রমোশন চাইছেন।’ এর পাশাপাশি তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে খুশি করতে চাইছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের শিক্ষা বিভাগে যে ডামাডোল চলছে এই পড়ুয়াদের এই বিক্ষোভ তার ফলাফল। শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্বাস ক্রমশ চলে যাচ্ছে।’
তবে দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণের পরে পরেই রাজ্যের নানা মহলে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, অতিমারির মধ্যে দেশের নানা রাজ্যেও এই ধরনের ঘটনা চোখে পড়েছে। এনআরএস হাসপাতালে ওই পদের জন্য যে বেতন দেওয়া হচ্ছে তার থেকেও কম বেতনের পদের জন্য বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাতের মতো রাজ্যে হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ, পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের আবেদন করতে দেখা দিয়েছে।
সেই সব ঘটনা কার্যত মোদি জমানায় ওই সব রাজ্য ও দেশের শিক্ষার বেহাল দশা ও চাকরি ক্ষেত্রের বিবর্ণতা তুলে ধরেছে। কই তখন তো বিজেপির কোনও নেতা এইসব নিয়ে মুখ খোলেননি। তাহলে এনআরএস নিয়ে দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণের অর্থ কী? বস্তুত এদিন রাজ্যের নানা মহলেও এই ঘটনার পিছনে বিজেপির ইন্ধন আছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
গতবছর যে সময়ে এই বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল তখন বাংলার ক্ষমতা দখলের জন্য মরিয়ে হয়ে উঠেছিল গেরুয়া শিবির। তাই যে সব উচ্চশিক্ষিতরা এই পদের জন্য আবেদন করেছেন তাঁরা যে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে এই কাজ করেননি তাঁর প্রমাণ কোথায়? তাই ওইসব মহল থেকে এই ঘটনার জন্য সিআইডি তদমতের দাবিও করা হয়েছে এদিন।
সূত্র: এই মুহুর্তে



