কেরলে হু হু করে বাড়ছে করোনা, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ৬ সদস্যের কেন্দ্রীয় দল, সমালোচনার মুখে সরকার

কেরলে হু হু করে বাড়ছে কোভিড পরিস্থিতি। খতিয়ে দেখতে এবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিশেষ উচ্চপর্যায়ের দল পৌঁছচ্ছে এই রাজ্যে। ৬ সদস্যের এই বিশেষ দল রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে কোভিড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই পরপর তিন দিন ২২ হাজার ছাড়িয়েছে কেরলের দৈনিক সংক্রমণ। বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয়েছে ১২৮ জনের। এই নিয়ে মোট সংক্রমণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩৬৫-তে এবং মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৮৫।
এই পরিস্থিতিতে এবার শনি ও রবি, অর্থাত্ সপ্তাহান্তে সম্পূর্ণ লকডাউনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিনারাই বিজয়ন প্রশাসন। তবে এর জন্য কেরালা সরকারকেই দায়ী করেছেন অনেকে। অভিযোগ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে লকডাউনের রাশ আলগা করতেই এই অবস্থায় পৌঁছেছে সংক্রমণের গ্রাফ।
মনে করা হচ্ছে, রাজনৈতিক ফায়দার জন্যই প্রথম থেকে সে রাজ্যের তরফে প্রচার করা হয়, তারা কড়া হাতে দমন করেছে কোভিডকে। আসলে কখনওই তা হয়নি। শেষমেশ হাতের বাইরে বেরিয়ে গেছে পরিস্থিতি। প্রসঙ্গত, গত বছর যখন দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ বাড়ছিল সেই সময় দ্রুত সংক্রমণের হারকে নিম্নমুখী করে গোটা বিশ্বেরই প্রশংসা কুড়িয়েছিল কেরল মডেল।
বামশাসিত কেরলে দ্রুত শুরু হয়েছিল আনলকও। কিন্তু সেই কেরলই এখন দেশের করোনা সংক্রমণের অন্যতম ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। যার ফলে উদ্বেগের পারদ ক্রমেই চড়ছে। গতকালই কেরল সরকারকে ইঙ্গিত করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর টুইট করেন, ‘মোদী সরকার যেখানে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ রোখার এত চেষ্টা করেছে, সেখানে কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনীতিকের জন্য গোটা দেশে কোভিডের তৃতীয় ঢেউয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।’
এই অবস্থায় ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোলের ডিরেক্টর ডক্টর এসকে সিংয়ের নেতৃত্বে বিশেষ দল কেরালায় পাঠাচ্ছে কেন্দ্র। আজ, শুক্রবার তাঁরা পৌঁছবেন কেরল, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ঠিক করা হবে কী কী করণীয়। তথ্য বলছে, দেশে এখন অ্যাকটিভ কোভিড কেসের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৩ হাজার। তার মধ্যে কেবল কেরলেই আছেন দেড় লক্ষ রোগী।
দেশের মোট অ্যাকটিভ রোগীর ৩৭ শতাংশই আছেন দক্ষিণের ওই রাজ্যে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, কেরলে যেভাবে অ্যাকটিভ কেস বাড়ছে, তাতে মনে হয়, সেখান থেকেই কোভিডের তৃতীয় ওয়েভের সূচনা হবে। পাশাপাশি, দেশজুড়ে সেরো সার্ভে চালাচ্ছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। ১১টি রাজ্যে সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
আইসিএমআরের রিপোর্ট বলছে, মধ্যপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের শরীরে কোভিডের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু কেরলে মাত্র ৪৪ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। তাই কেরলে এখনও করোনা সংক্রমণের হার বেশি।
সূত্র: দ্য ওয়াল



