
আরও ভ্যাকসিন চাই রাজ্যে। কিন্তু কেন্দ্র দিচ্ছে না। এই নিয়ে এবার রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে দিল্লিতে গিয়েও প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দেখা করে ভ্যাকসিনের দাবি জানিয়ে এসেছিলেন তিনি। বাংলাকে কম টিকা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
প্রবল ভ্যাকসিন সংকট তৈরি হয়েছে গোটা রাজ্যে। শহর থেকে গ্রাম কোথাও ভ্যাকসিন সহজে পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এই নিজে জেলায় জেলায় প্রবল বিক্ষোভ চলছে। রাত ভর হাসপাতালে লাইন দিয়েও করোনা টিকা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। একাধিক জেলায় এই নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। অনেক জায়গায় আগে থেকে ভ্যাকসিনের জন্য টোকেন কেেট রাখতে হচ্ছে।
কোভিশিল্ড মিললেও কোভ্যাকসিন মিলছে না। ফলে যাঁরা কোভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন তাঁরা দ্বিতীয় ডোজ পেতে সমস্যায় পড়ছেন। শহরের সুপার স্পেশালিিট হাসপাতাল এসএসকেএমেও ভ্যাকসিন পেতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘ লাইন।তার সঙ্গে রাত থেকে লাইন িদতে হচ্ছে করোনা ভ্যাকসিনের জন্য। কলকাতা শহরেও তীব্র ভ্যাকসিন সংকট তৈরি হয়েছে।
ভ্যাকসিন নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে রীতিমতো কড়া ভাষাতেই চিঠি লিখেছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিেত অভিযোগ করেছেন, ‘বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, কর্নাটক বেশি ভ্যাকসিন পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মতো ঘন বসতিপূর্ণ রাজ্যে অনেক কম ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছ। যে পরিমাণ ভ্যাকসিন চেয়েছিলাম তা এখনও পাইনি।
এই নিয়ে অনেকবার আপনাদের চিঠি পাঠিয়েছি। আমাদের অবিলম্বে ভ্যাকসিন পাঠান।’ বাংলাকে এভাবে বারবার বঞ্চনা করা হলে তিনি যে চুপ করে বসে থাকবেন না িচঠিতে সেবার্তা তিনি মোদীকে দিয়েছেন। এখন রাজ্যেকে দৈনিক হিসেবে ৪ লক্ষ করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। অথচ দিনে ১১ লক্ষ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন দিতে সক্ষম রাজ্য। এমনই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে দিল্লি সফরে গিয়ে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাসভবনে প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেন মমতা। সেই বৈঠকে মূল বিষয় ছিল ভ্যাকসিন। রাজ্যের জন্য বেশি ভ্যাকসিন পাঠানোর দাবি জানিয়ে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লিতে এই নিয়ে দরবার করার পরেও কোনও কাজ হয়নি।
সেই আগের পরিমানেও করোনা ভ্যাকসিন কেন্দ্রের কাছ থেকে পেেয় চলেছে রাজ্য।এদিকে মোদী সরকার জানিয়েছিলেন জনঘনত্বের হিসেবে রাজ্যগুলিকে করোনা ভ্যাকসিন বণ্টন করা হবে। এদিকে রাজ্য ভ্যাকসিন সংকট দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার জেরে তীব্র সমস্যার পড়তে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষেরও ভোগান্তির শেষ থাকছে না।
ভ্যাকসিনের দাবিেত দিল্লি সফরের আগেও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা। উত্তর প্রদেশকে সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন মমতা। ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন কোন রাজ্য কত ভ্যাকসিন পাবে সেটা ঠিক করে দিচ্ছে গুজরাতের বিজেপি পার্টি অফিস। প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছিলেন মমতা।
সুত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া



