নদীয়া

রাখি পূর্ণিমার পবিত্র তিথিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন শান্তিপুরের অন্যতম বৈষ্ণব সাধক ও যোগিপুরুষ শ্রী শ্রী বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী

রাখি পূর্ণিমার পবিত্র তিথিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন শান্তিপুরের অন্যতম বৈষ্ণব সাধক ও যোগিপুরুষ শ্রী শ্রী বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী - West Bengal News 24

রাখি পূর্ণিমার পবিত্র তিথিতে ই জন্মগ্রহণ করেছিলেন শান্তিপুরের অন্যতম বৈষ্ণব সাধক ও যোগিপুরুষ শ্রী শ্রী বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী । তথ্য বলছে 1841 সালের 2 রা আগস্ট রাখি পূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ইংরেজ শাসনকালের এই প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক ও বৈষ্ণব সাধক এবং নব বিধান ব্রামহো সমাজের আচার্য শ্রী শ্রী বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী । তার জন্মস্থান ছিল নদিয়ার শিকারপুর । তার পিতা ছিলেন আনন্দ কিশোর গোস্বামী এবং তার মা স্বর্ণময়ী দেবী ।

বৈষ্ণব গুরু অদৈতাচার্যের দশম বংশধর বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী শৈশব কাল থেকেই শ্যাম সুন্দরকে প্রত্যক্ষ করতেন এবং তার সাথে খেলা করতেন ও বাল্য কালে তিনি অত্যন্ত মেধাবী প্রকৃতির ছিলেন । ইতিহাসের তথ্যানুন্ধানে করে জানা যায় তার প্রারম্ভিক জীবনের শিক্ষালাভ শিকার পুরের বিদ্যালয় থেকে শুরু হলেও পরবর্তীকালে বিজয় কৃষ্ণ শান্তিপুরের গোবিন্দ গোস্বামীর বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।

আরো পড়ুন : আদিবাসী গ্রামে দুঃস্থ পরিবারের শিশুদের রাখি বাঁধলো সামাজিক সংগঠন সেতু (ভিডিও সংযুক্ত)

1869 সালে তিনি ভর্তি হয়ে ছিলেন কলকাতার সংস্কৃত কলেজে । পরবর্তীকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে তার পঠন পাঠন শুরু হয় , সেই সময় এক ব্রিটিশ অধ্যাপকের বর্ণ বৈষম্য মূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সর্ব প্রথম ব্রিটিশ ভারতে ধর্মঘটের ডাক দেন । পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে পড়লে পণ্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের হস্তক্ষেপে ঘটনার নিষ্পত্তি হয় ।

সেই সময় বিদ্যা সাগরের সাথে বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী বাংলায় স্ত্রী শিক্ষা প্রবর্তন এবং বিধবা বিবাহ প্রতিরোধ করার জন্য লড়াই করেছিলেন বলেই ইতিহাস সূত্রে জানা যায় । এরপর নদিয়ার শান্তিপুরে ফিরে এলে তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার চিকিৎসালয় খোলেন এবং সাধারণ মানুষের খুব সামান্য মূল্যে চিকিৎসা শুরু করেন । আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া ব্যক্তি বা গরীব মানুষদের কাছ থেকে তিনি কোনো অর্থ নিতেন না ।

তথ্য বলছে একবার এক রোগীকে একবার ঔষধ দেবার পর তার ঠিক মত খবর না পেয়ে অস্থির বিজয় কৃষ্ণ তার ক্লিনিক বন্ধ করে সেই ব্যাক্তির বাড়িতে যাবার মনস্থির করেন । প্রচণ্ড বৃষ্টি ও দুর্যোগের মধ্যে কোনো নৌকা না পেয়ে কাঁচের পাত্রে ঔষদগুলী মাথার পাগ রির বেঁধে নিয়ে সাঁতরে নদী পেরিয়ে রোগীর বাড়িতে পৌঁছান এবং ওই রোগী সুস্থ না হোয়ে ওঠা পর্যন্ত তিনি চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন ।

আরও পড়ুন : বার্গার দিয়ে অভিনব রাখি বানালেন রানাঘাটের এক শিল্পী (ভিডিও সংযুক্ত)

পরবর্তীকালে তিনি ব্রামহো ধর্মের আচার্য পদ করলে নানা ব্রামহো ধর্ম প্রচার করা শুরু করলে খাদ্য বিহীন ও আশ্রয় হিন হয়ে কোথাও হিংস্র বাঘ , কোথাও বিষধর সাপ আবার কোনো সময় ম্যালেরিয়ার সম্মুখীন হয়ে সত্যের বার্তা প্রেরণ করে গেছেন । তার বাড়ির প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহ শ্যামসুন্দর জিউ নামে সুপরিচিত ।

এই বিজোয় কৃষ্ণ গোস্বামীর বাড়িতে শ্যাম সুন্দর নিত্য পূজিত হন এবং যথেষ্ট আরম্বরের সাথেই রাস উৎসব উদযাপিত হয় । আমরা এই বিষয়ে কথা বলে নিলাম শ্রী বীজয় কৃষ্ণ গোস্বামী পরিবারের সদস্য ডক্টর ব্রজো কিশোর গোস্বামীর সাথে ।

আরও পড়ুন ::

Back to top button