মত্ত অবস্থায় ছেলেকে লক্ষ্য করে গুলি, সেনাকর্মীকে আটক করল পুলিশ

সেনাকর্মী থেকে সেনা আধিকারিক, কর্মজীবনে তাঁরা বেশ চাপের মধ্যেই দিন কাটান। একই সঙ্গে পরিবার থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকার ফলে ছেলেমেয়ে, স্ত্রী, বাবা-মা, ভাই-বোন মায় আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারেন না তাঁরা। প্রায়শই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে বদমেজাজ, রাগী, চিত্কার চেঁচামেচি মায় মদ্যপ ও মারধর করারও।
এবার সেই রকমই এক প্রাক্তন সেনা আধিকারিক এদিন সেই রাগের বশেই নিজের ছেলেকে গুলি করে দিলেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে খাস কলকাতার বুকে। বেহালার সরশুনার ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশ আটক করেছে ওই প্রাক্তন সেনা আধিকারিককেও।
জানা গিয়েছে, সরশুনার নস্করপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রাক্তন সেনা আধিকারিক প্রবীণ কুমার বেশ কিছুদিন ধরেই ভুগছিলেন মানসিক অবসাদে। বাড়ছিল মদ্যপানের প্রবণতাও। প্রায় রোজই মদ্যপ অবস্থায় ছেলে আর বউকে মারধর করতেন। সেই সঙ্গে ছিল অনান্য পারিবারিক সমস্যাও। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বাবার এই আচরণের প্রতিবাদ হামেশাই করতেন ২৩ বছরের ছেলে পবন কুমার।
আরও পড়ুন : সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম স্থান পাওয়া প্রাক্তনীকে সংবর্ধনা দিল কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশন
বৃহস্পতিবার রাতে প্রবীণবাবু মদ্যপ অবস্থায় তাঁর স্ত্রীকে মারধর শুরু করলে পবন তার প্রতিবাদ করে ও সেই সময় প্রবীণবাবু রাগের বশে তাঁর বন্দুক থেকে গুলি চালিয়ে দেন পবনের দিকে। সেই গুলি লাগে পবনের পায়ে। প্রতিবেশীরা গুলির শব্দে তাঁদের বাড়িতে ভিড় করলে দেখতে পান ঘরের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে আছে পবন। তাঁরাই কার্যত পুলিশকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি পবনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
জানা গিয়েছে, যে দোনলা ১২ বোরের বন্দুক থেকে প্রবীণবাবু গুলি চালিয়েছেন সেটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত। যে গুলি ছোঁড়া হয়েছে তা ছররা গুলি। এই গুলিতে কেউ মারা না গেলেও শরীরে বেশ ভালই আঘাত লাগে। সরশুনা থানার পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বন্দুকটি বাজেয়েপ্ত করেন ও প্রবীণবাবুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার রাতেই পবনকে সরশুনার বাড়ি থেকে প্রথমে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখান থেকে রাতেই তাঁকে এসএসকেএমে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে আজ তাঁর অপারেশন হবে বলেই খবর। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রবীণবাবু ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে বছর পাঁচেক আগে অবসর নিয়েছেন। সেই সময় ওই একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুকটি তিনি পেয়েছিলেন সেনাবাহিনী থেকেই। তবে পুলিশ প্রবীণবাবুকে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র-সহ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাঁর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
সূত্র: এই মুহুর্তে



