বিচিত্রতা

জেগে উঠতে পারে সাইবেরিয়ার ভয়ঙ্কর ‘জম্বি ভাইরাস’!

জেগে উঠতে পারে সাইবেরিয়ার ভয়ঙ্কর ‘জম্বি ভাইরাস’! - West Bengal News 24

রাশিয়ার চিরহিমায়িত অঞ্চল সাইবেরিয়ায় বরফের নিচে সাড়ে ৪৮ হাজার বছরের পুরোনো ভয়ঙ্কর ‘জম্বি ভাইরাসের’ খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভাইরাসগুলো পুনরুজ্জীবিত করার পর বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব বরফ যদি গলে যায় এবং ভাইরাসগুলো বেরিয়ে আসে, তাহলে তা পৃথিবীব্যাপী মহামারি সৃষ্টি করতে পারে, মানবজাতির জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

রাশিয়া, জার্মানি এবং ফ্রান্সের গবেষকদের একটি দল রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের প্রাচীন পারমাফ্রস্ট থেকে সংগ্রহ করা বরফের নমুনায় ভাইরাসটির অস্তিত্ব পেয়েছেন।

নির্দিষ্টভাবে বললে, নমুনাগুলো রাশিয়ার ইয়াকুটিয়ার ইউকেচি আলাসের একটি হ্রদের ৫৩ ফুট নিচের পারমাফ্রস্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের এক চতুর্থাংশ এলাকা স্থায়ীভাবে বরফে আচ্ছাদিত থাকে, যাকে পারমাফ্রস্ট বলা হয়।

পুনরুজ্জীবিত এ জম্বি ভাইরাসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্যানডোরাভাইরাস ইয়েডোমা’।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা পুনরুজ্জীবিত হওয়া প্রায় দু’ডজন ভাইরাস আবিষ্কার করেছেন। যার মধ্যে এমন ১৩টি ভাইরাস পাওয়া গেছে, যার অস্তিত্ব আগে কখনো দেখা যায়নি। এর মধ্যে নয়টি ভাইরাস তারা আবিষ্কার করেছেন, যেগুলো কয়েক হাজার বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফরাসি ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের মাইক্রোবায়োলজিস্ট জিন-মারি অ্যালেম্পিকের নেতৃত্বে এই কাজের পেছনের দলটি বলেছে, পুনরুজ্জীবিত ভাইরাসগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। এগুলো কতটা বিপজ্জনক, তা জানতে আরও গবেষণা দরকার। কেননা বরফে আচ্ছাদিত এ ভাইরাসগুলো জেগে ওঠা মাত্রই ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে গবেষণা অব্যাহত আছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

তবে তারা বলছেন, প্রাচীন এই পারমাফ্রস্ট একবার গলতে শুরু করলে এ ভাইরাসগুলো ছড়িয়ে পড়বে। তবে এগুলো বাইরের কোনো কিছুর সংস্পর্শে আসার পর কতক্ষণ সংক্রামক থাকতে পারে এবং কতটা সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি আছে তা অনুমান করা এখনও অসম্ভব।

আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, রাশিয়ার পারমাফ্রস্টের মধ্যে যদি অনেক বেশি করে ‘জম্বি ভাইরাস’ থেকে থাকে, তাহলে সেখানকার বিজ্ঞানীরা এগুলো দিয়ে জীবাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারে।

সূত্র: ব্রুবাইবল

আরও পড়ুন ::

Back to top button