
ভালবাসার জন্য মানুষ অনেক কিছু করতে পারে—এই কথার প্রমাণ যেন হেমা মালিনী নিজেই। যখন একজন মানুষ নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসে, তখন তার প্রতিদানও আসে ঠিক তেমনটাই—এই বিশ্বাসেই তিনি জীবন কাটিয়েছেন। চার দশক আগে যখন তিনি ধর্মেন্দ্রকে বিয়ে করেন, তখন নায়ক ছিলেন বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা (সানি ও ববি দেওল)। তাঁর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর তাঁকে ডিভোর্স দেননি। সেই সময় ধর্ম ও সমাজের সমস্ত প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে হেমা ও ধর্মেন্দ্র তাঁদের সম্পর্ককে আইনি রূপ দিতে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁরা নতুন নাম রাখেন আয়েষা ও দিলওয়ার।
আজও এই প্রেমকাহিনি বলিউডের অন্যতম আলোচিত বিষয়। তাঁদের প্রেম, ভালোবাসা আর একসঙ্গে থাকার দৃঢ়তাকে অনেকেই সিনেমার গল্পের সঙ্গে তুলনা করেন।
সেই সময় হেমা মালিনির রূপ ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ ছিল গোটা দেশ। তাঁকে বিয়ে করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন অনেকেই। জিতেন্দ্রও সেই তালিকায় ছিলেন। এমনকি হেমা ও জিতেন্দ্রর পরিবারও তাঁদের বিয়ে দিতে চেয়েছিল। তবে হেমার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন শুধুই ধর্মেন্দ্র। যদিও তাঁর পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। তবুও হেমা নিজে জানতেন, ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে অন্য কাউকে বিয়ে করলে ভুল হবে। সে সিদ্ধান্তে আজও তিনি অটল।
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এবং নিজের আত্মজীবনীতে হেমা এই প্রেমের কথা অকপটে জানিয়েছেন। সিমি গারেওয়ালের টক শোতেও তিনি একইভাবে তাঁর মনের কথা বলেছেন।
ধর্মেন্দ্রর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গে হেমার সম্পর্ক কেমন ছিল, এই প্রশ্ন বহুবার উঠেছে। হেমা জানিয়েছেন, বিয়ের আগে কয়েকটি অনুষ্ঠানে প্রকাশকে দেখেছেন, কিন্তু বিয়ের পর তাঁদের দেখা হয়নি কখনও। তিনি কোনওদিন প্রকাশকে হিংসে করেননি, বা বিরক্তও হননি। হেমার মতে, “যখন তুমি কাউকে ভালবাসো এবং সেও তোমাকে ভালবাসে, তখন এই ধরনের ছোটখাটো বিষয় জীবনে গুরুত্ব পায় না। আমি কোনও দিন ধরমজিকে কিছুতে জোর করিনি। তিনি যেমন চেয়েছেন, সম্পর্ক তেমনই এগিয়েছে।”
তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে হেমা বলেন, “আমার জীবন আমার, আমি যতটা বলতে চাই, ততটাই জানার অধিকার অন্যদের রয়েছে।”
হেমা ও ধর্মেন্দ্রর দুই কন্যা—এষা ও অহনা। একজন স্ত্রী ও একজন মায়ের ভূমিকায় যেমন হেমা কখনও কমতি রাখেননি, ঠিক তেমনই ধর্মেন্দ্রও নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন নিঃশর্তভাবে।
বিয়ের ৪০ বছর পেরিয়েও তাঁদের ভালবাসা আজও অটুট। যখনই হেমা ধর্মেন্দ্রর কথা বলেন, তাঁর মুখে এখনও একটা উজ্জ্বল আবেগের আভা ছড়িয়ে পড়ে। যা স্পষ্ট করে দেয়—প্রায় ১৫ বছরের বড় এই জীবনসঙ্গীকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তখন যেমন ঠিক ছিল, আজও ঠিকই আছে।



