রাজ্য

তিন মাসের খাদ্য মজুতের জায়গা নেই, কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে রাজ্যের কাছে সহযোগিতা চাইলেন রেশন ডিলাররা

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

তিন মাসের খাদ্য মজুতের জায়গা নেই, কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে রাজ্যের কাছে সহযোগিতা চাইলেন রেশন ডিলাররা - West Bengal News 24

তিন মাসের খাদ্যশস্য একসাথে মজুত রাখার মতো পর্যাপ্ত ভাঁড়ার না থাকায় কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী-কে চিঠি লিখেছেন রেশন ডিলাররা। একইসাথে, প্রয়োজনে ভাড়ার ঘর জোগাড় করে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার সম্ভাবনার কারণে ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’র আওতায় রেশন ডিলারদের আগাম ছ’মাসের খাদ্য মজুত রাখতে হবে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকার ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় তিন মাসের খাদ্য মজুতের নির্দেশ দিয়েছে। শুধু নির্দেশ নয়, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো পরিস্থিতিতে কোথায় কতটা খাদ্য মজুত রাখা সম্ভব—তা জানতে তথ্য চাওয়া হয়েছে ডিলারদের কাছ থেকে। পাশাপাশি, যথাযথ পরিমাণ খাদ্য সরবরাহের কথাও জানানো হয়েছে।

তবে ডিলারদের বক্তব্য, “ছয় মাস বা তিন মাস—যাই হোক, আমাদের অধিকাংশেরই দু’মাসের বেশি খাদ্যশস্য মজুত রাখার মতো গুদাম নেই।” এই কারণেই তাঁরা রাজ্য সরকারের সহায়তা চেয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাব—রাজ্য সরকার যেন ঘর ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মজুতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

এই রাজ্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিক হিসেবে তিন মাসের জন্য মোট ৯ লক্ষ ৯২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য কেন্দ্রীয় ভাঁড়ার থেকে উত্তোলনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের খাদ্য মে মাসের মধ্যেই তুলতে হবে। আর পরবর্তী তিন মাস অর্থাৎ নভেম্বর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় খাদ্য জুন মাসের মধ্যেই সংগ্রহ করতে হবে।

ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, “আগাম ছ’মাসের শস‌্য মজুত রাখার মতো শস‌্যভাণ্ডার আমাদের নেই। কেন্দ্র ও রাজ‌্য দুই সরকারকেই আমরা তা জানিয়েছি। সেক্ষেত্রে রাজ‌্য সরকারই বরং আমাদের সাহায‌্য করুক।” তাঁর আরও বক্তব্য, “৩ মাস বা ৬ মাসের জন্য কোনও গুদাম বা ঘর ভাড়া পাওয়া যায় না। ন্যূনতম ১১ মাসের জন্য চুক্তি করতে হয়। সেই রকম পরিকাঠামো বা আর্থিক সামর্থ্য ডিলারদের নেই। রাজ্য যদি চায়, তাহলে নিজস্ব গুদামে এই বিপুল খাদ্যশস্য মজুতের ব্যবস্থা করতে পারে।”

শুধু খাদ্য মজুত নয়, বর্ষার সময় শুরু হলে সেই খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ছয় মাসের খাদ্যশস্য আগেভাগে সংগ্রহ ও বিতরণ করার মতো বিশাল কাজ রাজ্য সরকারের ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ ছাড়া কার্যকর করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন রেশন ডিলাররা।

আরও পড়ুন ::

Back to top button