
বৃষ্টি শুরু হলেও দক্ষিণবঙ্গে গরম ও অস্বস্তি কমছে না এখনই। বরং এখানকার আবহাওয়া আরও আর্দ্র ও অস্বস্তিকর থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া কেন্দ্র। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু নির্ধারিত সময়ের পাঁচদিন আগেই, ১৩ মে ‘নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ আন্দামানসাগর এবং উত্তর আন্দামান সাগরের কিছু অংশে’ প্রবেশ করেছে। এরপর এটি উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঝুঁকে আছে। পাশাপাশি ‘পাঞ্জাব থেকে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখা’ বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর বাংলাদেশের উপর অবস্থান করছে। এই কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে দক্ষিণবঙ্গে জলীয়বাষ্পভরা হাওয়া প্রবেশ করছে।
আজ, মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। সকালে মেঘ থাকলেও, দুপুরের দিকে রোদের তীব্রতা বাড়বে এবং সঙ্গে বাড়বে গরম ও অস্বস্তিও। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় ‘কালবৈশাখী’ হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতায়ও আজ মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সকালটা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম ও রোদের দাপটও বাড়বে। আজকের ন্যূনতম তাপমাত্রা ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ‘৫৯ থেকে ৮৯ শতাংশ’ এর মধ্যে।
উত্তরবঙ্গে আজ ভারী ও অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। ‘দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলায় অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা’ দেওয়া হয়েছে এবং ‘২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা’ রয়েছে। এছাড়া মালদহ ও দুই দিনাজপুরেও ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ‘৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সতর্কবার্তা’ জারি করেছে হাওয়া অফিস।



