‘নির্বাচন কমিশনের ডিক্লারেশন ফর্মে জন্মসাল কেন বাধ্যতামূলক?’- কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

অবৈধ ভোটারদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজ্যকে পাঠানো হয়েছে একটি ‘ডিক্লারেশন ফর্ম’। আর এই ফর্মের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম নিয়ে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার দিঘা থেকে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ভোটার তালিকা সংশোধন করার জন্য আমাদের কাছে কমিশন একটা ফর্ম পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেই ডিক্লারেশন ফর্মের কয়েকটি বিষয়ে আমার আপত্তি আছে। কেন উল্লেখ করা হচ্ছে যে ১৯৮৭ থেকে ২০০২-এর মধ্যে যাদের জন্ম, তাদের তা লিখতে হবে ফর্মে? তার মানে কি তার আগে বা পরে যারা জন্মেছে, তাদেরটা হবে না?” এমন প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

দিঘার রথযাত্রা উপলক্ষে বর্তমানে সেখানে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনের নতুন ফর্ম নিয়ে নিজের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে দু’টি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠির নির্দেশিকাগুলি খতিয়ে দেখার সময়, ১৮ ও ১৯ নম্বর পাতায় তাঁর নজরে আসে যে, ফর্ম পূরণের সময়ে বাবা-মায়ের জন্মসনদও জমা দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন— সাধারণ মানুষ কোথা থেকে এই নথি সংগ্রহ করবেন? নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমিও নিজের মা-বাবার জন্মসাল জানি না।”
প্রায় ২২ বছর পর ভোটার তালিকা যাচাইয়ে সক্রিয় হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বিদেশি নাগরিকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে—যেখানে জন্মসনদের অনুপস্থিতিতে তালিকাভুক্ত হওয়া যাবে না। আর এখানেই আপত্তি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর আশঙ্কা, NRC-র মতো কোনও বিতর্কিত উদ্যোগের দিকে এগোচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এ বিষয়ে জনসাধারণকেও সতর্ক করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, “আপনারাও বিষয়টি নজরে রাখুন। ফর্মে দেখে নিন ভালো করে। আপত্তিজনক কিছু মনে হলে তা করবেন না। দরকারে সমবেত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, কমিশনের উদ্দেশ্য ভালো নয়।” যদিও এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেননি দলনেত্রী।



