উত্তর দিনাজপুর

রায়গঞ্জ পুলিশের বড় সাফল্য: আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেপ্তার যুবক, এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রায়গঞ্জ পুলিশের বড় সাফল্য: আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেপ্তার যুবক, এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য - West Bengal News 24

রায়গঞ্জ থানার অন্তর্গত কর্ণজোড়া এলাকায় পুলিশের তৎপরতায় ধরা পড়ল এক যুবক, যার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ৭.৬৫ মিমি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড তাজা গুলি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। পুলিশ এই ঘটনাকে বড়সড় অস্ত্রচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা হিসেবেই দেখছে।

শুক্রবার দুপুরে কর্ণজোড়া আউটপোস্ট পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাটখোলা চৌরঙ্গি মোড় এলাকায় একটি ঝটিকা অভিযান চালায়। সেখানেই সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় এক যুবককে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু পুলিশ তৎক্ষণাৎ তাকে ধরে ফেলে এবং দেহ তল্লাশি চালায়।

তল্লাশির সময় ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি অবৈধ ৭.৬৫ মিমি পিস্তল এবং এক রাউন্ড তাজা গুলি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম মাসুম আলম (বয়স ২৯), বাড়ি রায়গঞ্জের সোলেমান সরকারের পাড়ায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্ণজোড়া-মেহেন্দিগ্রাম সড়কের জিরাফ রিসর্টের কাছে অভিযান চালানো হয়েছিল। ধৃতকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই যুবকের পেছনে কোনো বড় অস্ত্রচক্র থাকতে পারে। এই সন্দেহের ভিত্তিতেই আদালতে পেশ করে মাসুম আলমকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

রায়গঞ্জ থানার এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “ধৃতের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, এই অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে, কাদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল — সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত জোর কদমে চলছে। অস্ত্রচক্রের মূল শিকড় অবধি পৌঁছানোই আমাদের লক্ষ্য।”

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কর্ণজোড়া ও সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই সফল অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, “এভাবে পুলিশ যদি নজরদারি চালিয়ে যায়, তাহলে অপরাধীদের রেহাই নেই। এতে এলাকার নিরাপত্তা অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে।”

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার কল রেকর্ড, যোগাযোগের চ্যানেল, এবং গত কয়েক সপ্তাহের গতিবিধিও নজরে রাখা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু সূত্রে অগ্রগতি করেছে বলেই খবর।

এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল, উত্তর দিনাজপুর জেলায় অবৈধ অস্ত্র পাচারের সক্রিয় নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা পুলিশকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। পুলিশের তৎপরতায় যদিও আপাতত বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবে গোটা চক্রটিকে ধরতে এখন বড় চ্যালেঞ্জ তদন্তকারীদের সামনে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য