ভারতের প্রভাব রুখতে ত্রিদেশীয় জোট গঠনের তোড়জোড়? আলোচনায় চিন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের প্রভাব কমাতে একত্রিত হতে পারে নতুন জোট— এমনই ইঙ্গিত মিলেছে পাকিস্তানের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি মাসেই চিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন চিনা উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুন ওয়েইডং, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রসচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী এবং পাকিস্তানের অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী। আলোচনা হয়েছে একটি সম্ভাব্য জোট গঠন নিয়ে, যা সার্কের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন–এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯ জুন চিনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রিপাক্ষিক এই বৈঠক। বৈঠকের পর বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হাসান বলেন, “এই বৈঠকের সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই। আধিকারিকদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে, নতুন করে কোনও জোট তৈরির আলোচনা হয়নি।” বাংলাদেশ এমনকি এই বৈঠক নিয়ে কোনও সরকারি বিবৃতিও দিতে চায়নি। তবে বৈঠকের পর পাকিস্তান থেকে আলাদা করে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
যদি এই তিন দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী জোট গড়ে ওঠে, তবে তা ভারতের কূটনৈতিক দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত, বহুদিন ধরেই নয়াদিল্লি CPEC (চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর) নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। এই প্রকল্প যদি বাংলাদেশ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়, তবে তা পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। জানা গেছে, সম্প্রতি চিন সফরে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস ‘চিকেন নেক’ দখলের কথা বলেছেন, যা শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলেও চিন তাদের প্রভাব জোরদার করতে চাইছে। এই ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে, ভারতের তিন দিক থেকেই চাপ তৈরি করতে পারে চিন-পাকিস্তান-বাংলাদেশের সম্মিলিত শক্তি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও প্রশান্ত মহাসাগরের বাণিজ্যপথে আধিপত্য কায়েম করতে চায় চিন। কিছুদিন আগেই তারা আফগানিস্তানের সঙ্গেও বৈঠকে বসে, সেখানে CPEC সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয় চিন-পাকিস্তান। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সেই যোগাযোগ আরও গভীর করছে বেজিং। এর ফলে জলপথে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা আরও সহজ হবে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকাকেও ভাবতে হবে এবং QUAD-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের পর থেকে সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ এই নতুন উদ্যোগে সার্কের আরও কয়েকটি দেশ যেমন আফগানিস্তান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা-কে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও থাকছে। দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান সার্ককে দুর্বল করার চেষ্টা করে আসছে, যেখানে ভারতের ভূমিকা বড় ছিল। প্রশ্ন উঠছে— এবার কি তিন দেশের যৌথ কৌশলে সার্ক একেবারে গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে?



