ব্যক্তির ঊর্ধ্বে দল! নিজের ছবি নয়, অফিসে পদ্ম প্রতীকের ফ্লেক্স টাঙানোর নির্দেশ শমীকের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়’—এই বার্তাই দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তা যেন শুধু বক্তব্যে আটকে না থাকে, সে কথা মাথায় রেখেই কাজে তা বাস্তবায়ন করতেও শুরু করেছেন তিনি। তারই একটি উদাহরণ দেখা গেল রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে।
সাধারণত, বিজেপির রাজ্য দফতর মুরলিধর সেন লেনের কনফারেন্স রুমে যে সাংবাদিক সম্মেলন হয়, সেখানে রাজ্য সভাপতির বড় ছবি ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকে। তবে এবার সেই প্রথায় বদল আনলেন শমীক। তাঁর নির্দেশে, সেই জায়গায় বসানো হয়েছে শুধু দলের প্রতীক—’পদ্মের বড় ফ্লেক্স’। সূত্রের খবর, “মুখ নয়, প্রতীক বড়”—এই ভাবনাতেই এই পদক্ষেপ। তাই তাঁর নিজের ছবি নয়, থাকল শুধু পদ্ম চিহ্ন।
শুধু এখানেই নয়, শমীক ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষী নেওয়ার প্রস্তাবেও সাড়া দেননি। তিনি চান সাধারণ কর্মীদের আরও কাছে থাকতে, যাতে নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব না থাকে। তবে এতকিছুর পরেও প্রশ্ন থেকেই যায়—এই পদক্ষেপগুলি কি আদৌ দলে চলা অন্তর্দ্বন্দ্ব দূর করতে পারবে?
বর্তমানে বঙ্গ বিজেপির অন্যতম বড় সমস্যা দলীয় বিভাজন। অন্তত তিনটি বড় গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে, পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ছোট গোষ্ঠীরও প্রভাব রয়েছে। এই অবস্থায় নতুন সভাপতি নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল এমন একজনকে বেছে নেওয়া, যিনি সব গোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য।
এই দিক থেকে শমীক ভট্টাচার্যকে বেছে নেওয়াটা ছিল অনেকটাই নিরাপদ সিদ্ধান্ত। যদিও তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বাস না থাকলেও, তাঁর বিরুদ্ধে বড়সড় আপত্তিও ওঠেনি কোনও গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে। মূলত তাঁর রাজনৈতিক সফরে তিনি খুব একটা শত্রু তৈরি করেননি। বরং শোনা যায়, যারা তাঁর অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও পাল্টা অবস্থান নেননি তিনি। রাজনৈতিক মহলে একটা প্রচলিত কথাই হল—’রাজনীতিতে সেই সফল, যে শত্রুকে নিজের দলে টেনে নিতে পারেন’। এই গুণটাই শমীকের অন্যতম শক্তি বলেই মনে করছেন অনেকেই।
তাই, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি কাজ শুরু করে দিয়েছেন সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে। রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় ঐক্যের বার্তা দিতেই তিনি নিজের বদলে “দলের প্রতীক টাঙানোর সিদ্ধান্ত” নিয়েছেন।



