
অসম থেকে আসা এক বাঙালি নাগরিককে এনআরসি সংক্রান্ত নোটিস পাঠানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তিনি বিষয়টি সামনে আনেন এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের নোটিসের মাধ্যমে বাংলার নাগরিকদের পরিচয় মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ‘ভারতবর্ষের সাংবিধানিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হলে, বাংলা চুপ করে থাকবে না’। সেই সঙ্গে, সমস্ত বিরোধী দলকে এই ঘটনার বিরুদ্ধে একত্র হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এক্স হ্যান্ডেলের সেই পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই লেখেন, `’আমি হতবাক ও অত্যন্ত বিচলিত হয়েছি জেনে যে, কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা রাজবংশী সম্প্রদায়ের উত্তম কুমার ব্রজবাসীকে অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল, এনআরসি নোটিশ জারি করেছে। গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই বাংলার বাসিন্দা। তাঁর বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও, তাঁকে বিদেশি/অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে হয়রানি করা হচ্ছে। এটি আমাদের গণতন্ত্রের উপর একটি পরিকল্পিত আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়। এটিই প্রমাণ করে যে অসমে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যেখানে তাদের কোনো ক্ষমতা বা অধিকার নেই। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখানো, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং নিশানা করার একটি পূর্বপরিকল্পিত নোংরা চক্রান্ত চলছে। এই অসাংবিধানিক আগ্রাসন জনবিরোধী এবং এটি বিজেপির বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রকে দিনের আলোর মত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, গণতান্ত্রিক সুরক্ষাকে ধ্বংস করে বাংলার মানুষের পরিচয় মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি।
এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সমস্ত বিরোধী দলগুলির একজোট হওয়া এবং বিজেপির বিভাজনমূলক ও দমন পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। ভারতবর্ষের সাংবিধানিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হলে, বাংলা চুপ করে থাকবে না।’`
এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে। সেসময় ডাকযোগে এক চিঠি পান কোচবিহারের সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দা উত্তমকুমার ব্রজবাসী। প্রথমে তিনি চিঠির গুরুত্ব বুঝতে না পারলেও পরে জানতে পারেন, সেটি গুয়াহাটি থেকে পাঠানো এনআরসির একটি নোটিস। নোটিসে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে কামরুপ জেলার পুলিশ সুপারের দফতরে হাজির হয়ে তাঁকে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দাখিল করতে হবে।
উত্তমবাবুর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর পরিবার একসময় অসম থেকে এলেও বহু প্রজন্ম ধরে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গেরই বাসিন্দা। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে নতুন করে প্রমাণপত্র দিতে হবে কেন, তা তাঁর পক্ষে বোঝা সম্ভব হচ্ছে না।
এই ঘটনাকে ঘিরে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় মুখ্যমন্ত্রী যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তার পুনরাবৃত্তি যেন দেখা দিল এই ঘটনার মধ্য দিয়ে। তিনি তখনই বলেছিলেন, সংশোধনী ফর্মে যেসব তথ্য চাওয়া হচ্ছে, তাতে এনআরসি কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর ঠিক সেই পরিস্থিতিতেই উত্তমবাবু এনআরসির নোটিস পেলেন। আর তারপরই বিজেপি পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



