‘নিয়ম লঙ্ঘন’ করে পুজো অন্যত্র, পুজোর রীতিতে ‘কপিরাইট’ দাবি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের, বিতর্ক তুঙ্গে
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পুজোর রীতি-নীতিতেও কপিরাইটের দাবি! দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে পুজো শুরু হওয়ার পর এবার নতুন পদক্ষেপে এগোল পুরীর জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। “সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে” পুরীর মাননীয় রাজা ও মন্দির পরিচালন কমিটির প্রধান ‘গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব’ জানিয়েছেন, ‘পূজার আচার কপিরাইটের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে’।
পুরীর মন্দির কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে ইসকনকে। তাদের মতে, ইসকন নিয়ম লঙ্ঘন করে দেশ-বিদেশে জগন্নাথদেবের পুজো ও রথযাত্রা পালন করছে। পুরীতে নির্দিষ্ট সময় মেনে যে স্নানযাত্রা ও রথযাত্রা হয়, তা ইসকন অনুসরণ করছে না। নিজেদের ইচ্ছামতো দিন নির্ধারণ করে এই পুজো-পার্বণ করছে তারা। এতে ‘ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ লাগছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
“গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেবের বক্তব্য, “এ নিয়ে ইসকনের সদর দপ্তর মায়াপুরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।” পাশাপাশি তিনি জানান, “ওড়িশা সরকার ইতিমধ্যেই মন্দিরের রীতিনীতির কপিরাইটের প্রক্রিয়া শুরু করেছে”। সরকারি সূত্রও বিষয়টির আইনি অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে— যদি ইসকনের রীতিনীতিতে গলদ থেকেই থাকে, তবে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান সম্ভব ছিল না? এই পরিস্থিতিতে রীতিনীতির ‘কপিরাইট’ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ধর্মাচরণ যদি ব্যক্তিগত অধিকার হয়, তবে কপিরাইট নেওয়া মানেই তো সেই অধিকারকে সীমাবদ্ধ করা! এটি কি তবে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়?
এ রাজ্যের শাসক শিবিরের একাংশের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের জনপ্রিয়তা। এর আগেও দিঘার মন্দিরের নাম ‘জগন্নাথ ধাম’ রাখা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ওড়িশা সরকার সেই নামকরণে আপত্তি তোলে। এমনকি ‘পুরী গোবর্ধনপীঠের শঙ্করাচার্য নিশ্চলানন্দ সরস্বতীও’ তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যদিও সেই আপত্তি শেষমেশ ফলপ্রসূ হয়নি। তাই প্রশ্ন উঠছে, দিঘায় জগন্নাথ পুজো শুরু হওয়ার পরই কি এই ‘কপিরাইট’ নেওয়ার ভাবনা শুরু করল পুরীর মন্দির প্রশাসন?



