জাতীয়

সরকারি চাপে পদত্যাগ? ধনকড়ের ইস্তফা ঘিরে বিরোধীদের প্রশ্নবাণ

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Jagdeep Dhankhar Resign : সরকারি চাপে পদত্যাগ? ধনকড়ের ইস্তফা ঘিরে বিরোধীদের প্রশ্নবাণ - West Bengal News 24

সোমবারও সংসদে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। যথারীতি পালন করেছিলেন উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। কিন্তু রাতেই আচমকা পদত্যাগ করেন জগদীপ ধনকড়। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। বিরোধী দলগুলির দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের চাপেই এই পদক্ষেপ করতে হয়েছে তাঁকে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের মতে, “সামনে যা দেখা যাচ্ছে, প্রকৃত ঘটনা তার চেয়ে অনেক গভীর।”

“রাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের এই আকস্মিক পদত্যাগ যতটা মর্মান্তিক, ততটাই অকল্পনীয়। আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম, আরও অনেক সাংসদও সেখানে ছিলেন। এরপর সন্ধ্যা ৭.৩০ টায় আমি তার সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছিলাম। নিঃসন্দেহে, জগদীপ ধনখড়ের উচিৎ নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। তবে এটাও স্পষ্ট যে তার এই সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত পদত্যাগের পিছনে দৃশ্যমান বিষয়ের চেয়ে আরও বেশি কিছু রয়েছে। তবে, এখন জল্পনা করার সময় নয়।’

জয়রাম রমেশ আরও লেখেন, ‘জগদীপ ধনখড়ের কর্তব্যবোধ ও চেয়ারে থাকাকালীন নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে সরকার এবং বিরোধীকে সমান চোখে দেখতেন। তিনি গতকাল দুপুর ১টায় বাণিজ্য উপদেষ্টা কমিটির একটি সভা ডেকেছিলেন এবং বিচার বিভাগ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করতে যাচ্ছিলেন। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করছি এবং তাঁকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করছি। আমরা আশা করি দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শ্রী জগদীপ ধনখড়কে তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য রাজি করাবেন। বিশেষ করে দেশের কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য তাঁর ফেরাটা স্বস্তির হবে।’

এই ইস্তফা নিয়ে মুখ খুলেছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা কপিল সিবাল ও সাংসদ নীরজ ডাঙ্গিও। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, হঠাৎ এমন পদত্যাগ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?

‘জগদীপ ধনকড়জি নিজের স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে স্বাস্থ্যই যদি কারণ হয়, তাহলে এর আগে হৃদরোগের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তিনি ৩-৪ দিনের মধ্যে ফের অধিবেশন কক্ষে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এবার হঠাৎ করে স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। আমার মনে হয় সরকারের চাপে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। এটি দেশ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য ভালো নয়। যে কোনও পদই হোক না কেন, বিজেপি সরকার এই দেশকে ইচ্ছামত পরিচালনা করতে চায়, সেটা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।’

উল্লেখযোগ্য, ধনকড় তাঁর পদত্যাগপত্রে শরীরচর্চা ও চিকিৎসকদের পরামর্শের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। সোমবার রাতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্রে তিনি লেখেন, “চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো এবং শারীরিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সংবিধানের ৬৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি দেশের উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।”

সেইসঙ্গে রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘মেয়াদকালে প্রধানমন্ত্রীর থেকে যে সহযোগীতা পেয়েছি এবং তিনি আমাকে যেভাবে সমর্থন করে গিয়েছেন, তা আজীবন মনে রাখব।’

আরও পড়ুন ::

Back to top button