
কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে চলা টানাপোড়েনের মধ্যেই ‘মল্লিকার্জুন খাড়গে’-র গলায় শোনা গেল না পাওয়ার আক্ষেপ। দীর্ঘ পাঁচ বছরের পরিশ্রম ও সংগ্রামের পরও তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী না করায় দলীয় হাইকমান্ডের পুরনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হলেন ‘কংগ্রেস সভাপতি’ নিজেই। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর বিজয়পুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন খাড়গে, সঙ্গে ঝরে পড়ে হতাশা ও ক্ষোভ।
তিনি বিধায়ক, সাংসদ, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি, সর্বভারতীয় সভাপতি এবং লোকসভা ও রাজ্যসভার কংগ্রেস দলনেতার পদে ছিলেন বহুবার। কিন্তু কখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেননি। তাঁর মতে, সেই পদ পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেও ১৯৯৯ সালে কর্নাটকে কংগ্রেস ক্ষমতায় এলেও তাঁকে উপেক্ষা করা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে খাড়গে বলেন, “তখন আমি বিরোধী দলনেতা। ৫ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আমাদের দল কর্নাটকে ক্ষমতায় আসে। তবে আমার লড়াইয়ের উপর ভিত্তি করে দল ক্ষমতায় এলেও আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়নি। ওই পদে বসানো হয়েছিল মাত্র ৪ মাস আগে দলে যোগ দেওয়া এসএম কৃষ্ণকে। হাই কমান্ডের সেই সিদ্ধান্ত আমাকে কষ্ট দিয়েছিল।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেলিমঠ মহাসংস্থার প্রধানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘স্বামীজি আমি পাঁচ বছর কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম। অথচ আমার সেই পরিশ্রম বৃথা গেল। এরপরই আমি বিশ্বাস করি, কর্ম করে যাও, ফলের প্রত্যাশা করো না। আপনার মনে কোনও লোভ থাকা উচিৎ নয়। কারণ আপনি যদি লোভ করেন, তবে যা আপনি চাইছেন তা কখনই পাবেন না।’
এরপর নিজের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে তিনি জানান, ‘আমি কখনই আমার রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার পিছনে দৌড়ইনি। শুধু কর্তব্য পালন করেছি। তাই ক্ষমতা আমার কাছে নিজে থেকেই এসেছে।’
প্রসঙ্গত, এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিতে ‘সিদ্দারামাইয়া’ ও ‘ডিকে শিবকুমার’-এর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। হাইকমান্ড সমঝোতার পথে হাঁটলেও দলের অভ্যন্তরে অনেক বিধায়ক ও কর্মীরা ‘শিবকুমার’-কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে খাড়গের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বার্তা দিয়েছেন— দায়িত্ব পালনই আসল, লোভ নয়।



