সাত বছর পর চিন সফরে মোদি, শি জিনপিংয়ের বার্তা ‘হাতি-ড্রাগনের বন্ধুত্ব’
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

দ্রুত পাল্টে যাওয়া আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন অধ্যায় রচনা হল। সাত বছর পর চিন সফরে গিয়ে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠক করলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে। প্রায় ৫০ মিনিটের আলোচনার শেষে জিনপিং বলেন, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে ভারত ও চিনের বন্ধুত্ব একান্ত জরুরি।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঘিরে যখন বিশ্ব রাজনীতি উত্তাল, সেই সময়েই এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখছেন কূটনীতিবিদরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও।
মোদিকে স্বাগত জানিয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট বলেন, “গত বছর কাজানে আমাদের সফল বৈঠকের পর আপনার সঙ্গে ফের সাক্ষাৎ হওয়ায় আমি আনন্দিত। এসসিও সম্মেলনের জন্য চিন আপনাকে স্বাগত জানায়।” বৈঠককে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বড় পরিবর্তনের সময়েই এই আলোচনার গুরুত্ব রয়েছে। দুই দেশের সভ্যতা প্রাচীন এবং বিশাল জনসংখ্যা নিয়ে গ্লোবাল সাউথের মূল অংশ আমরা। তাই আজকের সময়ে একে অপরের প্রতি দায়িত্ব পালন জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, “গত বছর কাজানে আমাদের মধ্যে খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল যা আমাদের সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। সীমান্তে সেনা প্রত্যাহারের পর শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত সমস্যার বিষয়ে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা ফের শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলও আবার শুরু হচ্ছে। দুই দেশের ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ আমাদের সহযোগিতার সঙ্গে জড়িত। এটি সমগ্র মানবতার কল্যাণের পথ প্রশস্ত করবে। পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
প্রায় সাত বছর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে সরগরম হয়ে উঠেছে চিনের বন্দর শহর। সেখানে মোদি, শি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনার ঝড় উঠেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় এসে একের পর এক শুল্ক আরোপ করেছেন—ভারতের উপর রুশ তেলের অজুহাতে ৫০ শতাংশ শুল্ক, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার উপর চাপ, এমনকী বিরল খনিজ রপ্তানি আটকালেই চিনকে ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি। তাঁর এহেন নীতিতে ক্ষুব্ধ বহু এশীয় দেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার এই একতরফা আধিপত্যকে মোকাবিলা করতে গ্লোবাল সাউথ এগিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতেই মোদি-জিনপিংয়ের বন্ধুত্বের বার্তা ওয়াশিংটনের অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।



