
হিন্দি সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী রেখা শুধুমাত্র পর্দার মধ্যে নয়, বাস্তব জীবনেও নজর কাড়েছেন। বিশেষ করে তাঁর স্বামী মুকেশ আগরওয়াল-এর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বহু বছর ধরে গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন।
রেখা ৩৫ বছর বয়সে বিয়ে করেন। তবে এক বছরের মধ্যেই তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পথে চলে। দুজনই বিচ্ছেদের কাগজপত্র তৈরি করেছিলেন। কিন্তু আইনি বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার আগেই মুকেশ আগরওয়াল আত্মহত্যা করেন। রেখা সব সময়ই সংসারী হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবতা তার প্রতি নির্মম পরীক্ষা চালায়।
পরিচিতি ও সম্পর্ক শুরু হয় যখন ফ্যাশন ডিজাইনার বন্ধু বীনা রমণী মুকেশের নম্বর দেন। প্রথমে কথোপকথন ছিল আনুষ্ঠানিক, পরে ধীরে ধীরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। রেখা ভেবেছিলেন, দিল্লির ব্যবসায়ী মুকেশকে বিয়ে করে জীবন নতুন অধ্যায় শুরু করবেন।
আরও পড়ুন :: রণবীরের সঙ্গে কেন ভেঙেছিল আনুশকার সম্পর্ক?
২০০৬ সালে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেখা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, তিনি কখনোই মা হতে চাননি। তিনি বলেন, “আমি কখনো সন্তান চাইনি। সন্তান না থাকায় কোনো অভাব নেই। ভবিষ্যতে যদি আবার বিয়ে করি, তবু সন্তান নেব না।”
মুকেশের মৃত্যুর পর রেখা প্রচণ্ড মানসিক চাপে পড়েন। তাকে নানা গুজবের শিকার হতে হয়, অনেক সময় তাঁকে ‘ডাইনি’ বলা হত যেন মুকেশের মৃত্যুর জন্য তিনি দায়ী। শুরুতে রেখা নীরব ছিলেন, পরে ২০০৪ সালে সিমি গারেওয়ালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি মুকেশকে হত্যা করিনি।”
রেখা স্মৃতিচারণ করেন, “যত নিষ্ঠুরই শোনাক, সেটি ছিল আমার জীবনের সেরা সময়। কারণ তখন আমি কিছু মানুষের প্রকৃত রূপ দেখেছি। প্রথমে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ি, এরপর বাজে কথা শুনতে শুনতে ক্রোধে ফুঁসতাম। তখন চুপ ছিলাম, কারণ আমি কাউকে আঘাত করতে চাইনি।” মুকেশের মৃত্যুর পর রেখা আর কখনো বিয়ে করেননি।



