
উৎসবের আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আসার সম্ভাবনা থাকলেও শেষমেশ বিশ্বকর্মা পুজোর প্রাক্কালে প্রথম চালান ঢুকল রাজ্যে। মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে ইলিশ বোঝাই ট্রাক এদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকার এই প্রথম দফায় ৩৭.৪৬ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠিয়েছে। এতে উৎসবের বাজারকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে— পুজোয় সাধারণ ক্রেতারা কি পদ্মার ইলিশের স্বাদ পাবেন?
প্রতি বছর উৎসব মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি মেলে। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরে ইউনুস সরকারের তরফে জানানো হয়, নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ পুজোর আগে ভারতে পাঠানো হবে।
গতবার যেখানে অনুমোদন ছিল প্রায় ৩,০০০ টন, সেখানে শেষপর্যন্ত এসেছিল ২,৪২০ টন ‘রুপোলি শস্য’। চলতি বছর ঢাকার বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, মোট ১,২০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে— যা গতবারের প্রায় অর্ধেক। তাই কবে নাগাদ চালান আসবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে সংশয় ছিল।
অবশেষে মঙ্গলবার রাত একটার সময় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে সাতটি ট্রাক ইলিশ নিয়ে প্রবেশ করে ভারতে। খবর পেয়ে সীমান্তে উপস্থিত ছিলেন এপারের ব্যবসায়ীরাও। ইলিশ হাতে ছবি তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তাঁরা। প্রতিটি মাছের ওজন এক কেজির বেশি। প্রতি কেজি ইলিশের রপ্তানি মূল্য ধরা হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫২৫ টাকা। তবে এই ইলিশ রাজ্যের বাজারে কত দামে বিক্রি হবে, তা পরে স্থির হবে বলে ব্যবসায়ী মহল জানিয়েছে। আপাতত প্রথম চালান এসেছে, আর কবে পরবর্তী চালান ঢুকবে সেই অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।



