রাজ্য

বাড়ির পাশের পুকুর বা সুইমিং পুলে কি মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা ‘লুকিয়ে’ আছে? বাংলাতেও ক্রমশ বাড়ছে দুশ্চিন্তা!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Amoeba Virus : বাড়ির পাশের পুকুর বা সুইমিং পুলে কি মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা ‘লুকিয়ে’ আছে? বাংলাতেও ক্রমশ বাড়ছে দুশ্চিন্তা! - West Bengal News 24

কেরলে ছড়িয়ে পড়েছে মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবার (Brain Eating Amoeba) সংক্রমণ। এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত করা না গেলে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। ফলে বাংলার মানুষও আতঙ্কে—কেরল থেকে এ সংক্রমণ এখানে আসতে আর সময় কতটা লাগবে? আপনার আশপাশের পুকুর বা সুইমিং পুলে কি অ্যামিবার উপস্থিতি আছে (Brain Eating Amoeba)? এখনই সাবধান হওয়া দরকার।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই সংক্রমণকে বলা হয় প্রাইমারি অ্যামোবিক মেনিঙ্গোএনসেফালাইটিস (PAM)। এর জন্য দায়ী নায়েগলেরিয়া ফওলেরি নামের এক ধরনের প্যারাসাইট, যা গরম ও স্থির জলে জন্মায়। শুধু জল পান করলেই নয়, সেই জলে স্নান বা সাঁতার কাটলেও নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে এই অ্যামিবা। এরপর এটি মস্তিষ্কে গিয়ে ব্রেন টিস্যু ধ্বংস করে দেয় এবং মস্তিষ্ক ফুলে ওঠে।

প্রথমদিকে মাথাব্যথা, জ্বর, বমি, মাথা ঘোরা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক সময় চিকিৎসকরা একে ‘ভাইরাল মেনিনজাইটিস’ ভেবে ভুল করেন। তখন পর্যন্ত মস্তিষ্কে জল জমে যাওয়া বা ফুলে ওঠার মতো জটিলতা তৈরি হয় এবং চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে রোগী ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি এমনকি কোমায় চলে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছে যেতে পারেন।

ডাক্তারদের মতে, একেবারে শুরুর দিকেই যদি রোগ ধরা পড়ে, তাহলে অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল ককটেলের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। এজন্য সিএসএফ পরীক্ষা জরুরি। কেরল সরকার সতর্কতা জারি করেছে—যদি কেউ পুকুর বা ঝিলে স্নানের পর মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গে আক্রান্ত হন, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। পাশাপাশি পুকুর-ঝিল পরিষ্কার রাখতে ক্লোরিন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেরলের স্বাস্থ্য দফতরের মতে, বর্তমানে আক্রান্তদের চিকিৎসায় অ্যাম্ফোটেরিসিন-বি (Amphoterisine B)-র পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে মিল্টেফোসিন। সঙ্গে আইসিইউ স্তরের বিশেষ যত্ন, মস্তিষ্কের চাপ নিয়ন্ত্রণ, খিঁচুনি সামলানো এবং দ্রুত রোগ নির্ণয়ের সুবিধাও রাখা হচ্ছে। এভাবেই ভয়ঙ্কর PAM সংক্রমণ মোকাবিলায় এগোচ্ছে রাজ্য।

বিশেষজ্ঞদের মত, জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এ ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। তাই প্রতিরোধে সাঁতার কাটার সময় নোজ-ক্লিপ ব্যবহার করা এবং স্থির জল এড়িয়ে চলাই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আরও পড়ুন ::

Back to top button