
অঝোর বৃষ্টিতে শহরের অসংখ্য গাড়ির হাল বেহাল। কারও ইঞ্জিনে জল ঢুকে গাড়ি স্টার্ট হচ্ছে না, কারও আবার সিট, ম্যাট বা সাইলেন্সার সম্পূর্ণ নষ্ট। ট্যাক্সি, বাস, ক্যাব, বাইক থেকে শুরু করে ম্যাটাডোর সবই এবার দুর্যোগের কবলে।
বৃষ্টি থামতেই পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট। গাড়ির মালিকরা তড়িঘড়ি যোগাযোগ করছেন গ্যারেজে। কিন্তু সেখানেই তৈরি হয়েছে তীব্র জট। একেকটি গ্যারেজে ইতিমধ্যেই দেড় থেকে দু’শোরও বেশি বিকল গাড়ি জমে আছে। ফলে কখন গাড়ি মেরামত হবে, তা বলা যাচ্ছে না। শহর ও শহরতলির গ্যারেজগুলোতে জায়গা নেই বললেই চলে।
ক্যাব অপারেটরদের দাবি, অন্তত দুই হাজার ক্যাব বিকল হয়ে পড়েছে। সরকারি-বেসরকারি মিলে নষ্ট হয়েছে কয়েকশো বাসও। ফলে দুর্গাপুজোর মুখে দুশ্চিন্তা বেড়েছে গাড়ি মালিকদের। বিশেষত বাইকের মালিকদের অনেকের সাইলেন্সারে জল ঢুকে গিয়ে যানবাহন বিকল হয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি শহরের রাস্তাজুড়ে এখনও অসংখ্য গাড়ি অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
সবচেয়ে চাপে পড়েছে টোয়িং সংস্থাগুলো। লাগাতার ফোন আসছে তাদের কাছে। শহরের রাস্তায় কিংবা আবাসনের বেসমেন্টে আটকে থাকা গাড়ি উদ্ধারের জন্য কাতর অনুরোধ পৌঁছে যাচ্ছে সেখানে। সংস্থার মালিকদের কথায়, আমফানের সময়ও এত ফোন আসেনি।
সোমবার রাতের প্রবল বর্ষণে ডুবে যায় বহু এলাকা। পার্কিং লট ও মাঝরাস্তায় আটকে পড়ে অগণিত গাড়ি। পরিস্থিতি সামাল দিতে টোয়িং সংস্থাগুলো কার্যত হাঁপিয়ে উঠেছে। সীমিত সংখ্যক টানার ভ্যান দিয়ে একের পর এক বিকল গাড়ি তুলতে হচ্ছে, এবং সেগুলো পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন গ্যারেজে। প্রতিটি গাড়ি তুলতে খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার টাকা। গ্যারেজে মেরামতের খরচ আরও বেশি—একেকজন মালিককে গুনতে হতে পারে অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত গাড়িই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। টোয়িং সংস্থার এক মালিক জানিয়েছেন, প্রচুর ফোন আসছে বড় আবাসনগুলোর বেসমেন্ট থেকে গাড়ি বার করার জন্য। উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলো গ্যারেজে পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু কবে সেগুলো আবার রাস্তায় নামবে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। মালিকদের একটাই বক্তব্য গাড়ি পুরোপুরি ব্রেকডাউন হয়ে গিয়েছে, আর গ্যারেজে গাড়ির সংখ্যা এত বেশি যে মেরামতের সময়সীমা অনিশ্চিত।
অনলাইন ক্যাব অপারেটর্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “হাজার দুয়েক গাড়ি অন্তত খারাপ হয়ে গিয়েছে। গ্যারেজে গিয়েছে। ফলে রাস্তায় কিছুদিন গাড়ির টান থাকবে।”



