রাজনীতিরাজ্য

সাত বছর পর ঘাসফুলে ফিরলেন শোভন সাথে বৈশাখীও, ভোটের আগে তৃণমূলে বড় চমক

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সাত বছর পর ঘাসফুলে ফিরলেন শোভন সাথে বৈশাখীও, ভোটের আগে তৃণমূলে বড় চমক - West Bengal News 24

দীর্ঘ সাত বছর পর ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ওয়াপসি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসে আবারও যোগ দিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সোমবার তৃণমূল ভবনে অরূপ বিশ্বাস এবং সুব্রত বক্সির হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন দু’জন। শোভনের দাবি, ‘দলকে শক্তিশালী করতে পথে নামব’। ফের দলে ফেরার পর এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কালীঘাটে বৈঠক করার কর্মসূচি রয়েছে তাঁদের।

‘ঘরের ছেলে’ শোভনের প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় এদিন অরূপ বিশ্বাস বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের কর্মযজ্ঞে শামিল হওয়ার জন্য তাঁরা আবেদন করেছিলেন। আমাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে অনুমোদনে সুব্রত বক্সি তাঁদের হাতে পতাকা দেন। আসলে শোভন ঘরের ছেলে। তিনি আবার ঘরে ফিরলেন। আজ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক হিসাবে তাঁরা কাজ করবেন।” সুব্রত বক্সিও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা শোভন-বৈশাখীকে দলে স্বাগত জানাই।”

সাত বছর পর দলে ফেরা নিয়ে কী বললেন শোভন? তিনি জানান — “যদি আমার শিরা, ধমনি বলেন আর তৃণমূল কংগ্রেস – আমার নিজের ঘর, নিজের সংসার। আমার আত্মিক যোগ। ঘরের ছেলে হিসাবে পুনরায় শামিল হলাম। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার জন্য। আমার সামর্থ্য মতো তৃণমূলের পাশে থাকব। যেভাবে মমতা, অভিষেক চাইবেন। বক্সিদা চাইবেন। অরূপ আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু। আমার কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। যে দায়িত্ব আমাকে দল থেকে দেওয়া হবে, সেই অনুযায়ী কাজ করব। আমার চেষ্টার কোথাও কোনও ত্রুটি রাখব না। সুন্দর ঘরকে আমার সমগ্র শক্তি দিয়ে আরও শক্তিশালী করে তুলব – এটা আমার দায়িত্ব, কর্তব্য।”

উল্লেখযোগ্য, প্রায় এক মাস আগেই প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরেছেন শোভন। নিউটাউন-কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NKDA)-র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা চলছিল। সেই সূত্রেই প্রথমে তাঁকে এনকেডিএ-র দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর এখন ফের রাজনৈতিক ভাবে তিনি কর্মযজ্ঞে ফিরছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের আবহে শাসক শিবিরে এবার তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হতে পারে, এমনটাই ধারণা ওয়াকিবহালদের।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে দলীয় দ্বন্দ্বের জেরে আচমকা কলকাতার মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ান শোভন। সঙ্গে আরও দুই মন্ত্রিত্বও ছেড়ে দেন। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে বৈশাখীকে নিয়ে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন তিনি। এরপর ২০২০ সালে তাঁরা বঙ্গ বিজেপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পান। একুশের ভোটে ‘তারকা প্রচারক’ হিসেবেও নাম ঘোষণা হয়েছিল তাঁদের। তবে গেরুয়া শিবিরে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি তাঁদের অধ্যায়।

পরে ধীরে ধীরে ফের তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। পুরনো নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। ভাইফোঁটা উপলক্ষ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তাঁর যাতায়াত কখনও বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিকবার ব্যক্তিগত স্তরে আলোচনা হয়েছে— এমনটাই রাজনৈতিক মহলের খবর। গত মাসে দার্জিলিংয়ে মমতার সঙ্গে বৈঠকের পরই তাঁকে এনকেডিএ-র দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর এবার সেই ধারাবাহিকতায় দলে ফেরত।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য