জাতীয়

রামমন্দির থেকে কাশীধাম, দেশজুড়ে ২০০টি জায়গায় হামলার নকশা, সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ছড়ানোর ছক জঙ্গিদের

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রামমন্দির থেকে কাশীধাম, দেশজুড়ে ২০০টি জায়গায় হামলার নকশা, সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ছড়ানোর ছক জঙ্গিদের - West Bengal News 24

গত দু’বছর ধরে বিস্ফোরক জমিয়ে প্রায় ২০০টি জায়গায় আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৬/১১ ধাঁচের বড়সড় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে যুক্ত জঙ্গিরা। তদন্তে জানা গিয়েছে, দিল্লির লালকেল্লা, ইন্ডিয়া গেট, কনস্টিটিউশন ক্লাব, গৌরীশঙ্কর মন্দির ছাড়াও কাশী ও অযোধ্যার মতো ধর্মীয় স্থানে হামলা চালিয়ে দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির পরিকল্পনা ছিল। শুধু রাজধানীই নয়, গুরুগ্রাম–ফরিদাবাদের বড় মল এবং দেশের বড় রেলস্টেশনগুলিও তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

এই পরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল কাশ্মীরের পুলওয়ামা, শোপিয়ান ও অনন্তনাগের কয়েকজন চিকিৎসককে, যাতে সন্দেহ না জাগিয়ে তারা সহজে যাতায়াত করতে পারে। ফরিদাবাদে উদ্ধার হওয়া OL10CK0458 নম্বরের উমরের গাড়িটিরও উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়কেই তারা ঘাঁটি বানিয়েছিল।

দিল্লি-পুলিশ শুরু থেকেই সন্দেহ করছিল, উমরের একাধিক গাড়ি থাকতে পারে। একটি লাল রঙের ফোর্ড ইকোস্পোর্ট খোঁজা হচ্ছিল বুধবার সকাল থেকে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানায়। সন্ধ্যার দিকে ফরিদাবাদের খাণ্ডাওয়ালি গ্রামে গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করা হয়। ফরেনসিক দল রাতেই গাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটির সঙ্গে মূল অভিযুক্ত ড. উমর নবির সরাসরি যোগ থাকতে পারে। এদিনই গোবিন্দপুরী মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি গাড়ি থেকে দু’জন সন্দেহভাজনকে ধরেছে পুলিশ; উদ্ধার হয়েছে দুটি বন্দুক, চারটি ফোন ও নগদ টাকা। গাড়িটিতে বিস্ফোরক থাকার জল্পনা এলেও সরকারি ভাবে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভুটান থেকে ফিরে সরাসরি এলএনজেপি হাসপাতালে পৌঁছে আহতদের অবস্থা খতিয়ে দেখেন। রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্ফোরণে নিহতদের স্মরণে দু’মিনিট নীরবতা পালিত হয় এবং একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেখানে দিল্লি বিস্ফোরণকে সন্ত্রাসী ও দেশবিরোধী আক্রমণ বলা হলেও সীমান্তপারের জঙ্গি যোগের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার নিজস্ব বক্তব্যের চাপেই এবার সমস্যায় পড়েছে। আগে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তান থেকে কোনও সন্ত্রাসী হামলা হলে তা ‘যুদ্ধের ঘোষণার’ সমান বলে ধরা হবে। ফলে দিল্লি বিস্ফোরণে জইশ-ই-মহম্মদের সম্ভাব্য ভূমিকার ইঙ্গিত থাকলেও সরকার এখনো সরাসরি মন্তব্য করছে না। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠকেও বিস্ফোরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দিল্লিতে ব্যবহৃত গাড়িবোমাটি আত্মঘাতী হামলা ছিল না। কারণ গাড়িটি কোনও লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটে যায়নি বা কোনও ভবনে ঢোকার চেষ্টা করেনি। বিস্ফোরণে উমর মারা যায়। ধ্বংসস্তূপে পাওয়া দেহাংশ শনাক্ত করতে তার মায়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০টি নমুনা উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য