
সোমবার বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক পদে, অর্থাৎ ভারতের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আগামী প্রায় ১৫ মাস এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। রাষ্ট্রপতিভবনে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে হিন্দিতে শপথ নেন বিচারপতি কান্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপরাজ্যপাল সি পি রাধাকৃষ্ণণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বহু গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাঁদের সামনেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিচারপতি সূর্য কান্তকে শপথবাক্য পড়ান।
শপথগ্রহণের সাক্ষী ছিলেন কেন্দ্রীয় আইন দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালও। সঙ্গে ছিলেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রাক্তন উপররাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়, বিদেশি বিচারপতিদের প্রতিনিধিদল এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিরা। পারিবারিক সদস্যদেরও দেখা যায় অনুষ্ঠানে। শপথ নেওয়ার পর মা, বাবা ও গুরুজনদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম জানান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর ব্যক্তিগত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন স্কুল-কলেজের বন্ধু, শিক্ষক, গ্রামবাসী মিলিয়ে প্রায় হাজার মানুষ যাঁদের মধ্যে ২৩৫ জন রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা সুপ্রিম কোর্টের অডিটোরিয়ামে বসে সরাসরি শপথ অনুষ্ঠান দেখেন।
প্রথা অনুযায়ী বিদায়ী প্রধান বিচারপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস আগে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই নিয়ম মেনে গত মাসেই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই বিচারপতি সূর্য কান্তকে উত্তরসূরি হিসেবে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠান। এরপর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে ভারতের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করেন। রবিবার পদ ছাড়েন বিচারপতি গাভাই, আর সোমবার দায়িত্ব নেন বিচারপতি কান্ত। তিনি ২০২৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন।
দুই দশকেরও বেশি সময় বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে বিচারপতি সূর্য কান্ত বহু উল্লেখযোগ্য রায় দিয়েছেন। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ, পেগাসাস সফটওয়্যার তদন্ত সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সেই সাংবিধানিক বেঞ্চের সদস্যও ছিলেন তিনি, যার রায়ে ৩৭০ ধারা বাতিলকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ আমলের রাষ্ট্রদ্রোহ আইন আইপিসি ১২৪এ বাতিলের রায়ও তাঁর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চেই হয়। ‘জাতীয় নিরাপত্তা’কে ঢাল করে রাষ্ট্র যাতে বিচার বিভাগের তদন্ত এড়াতে না পারে এই বিষয়ে দেওয়া রায়ে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
১৯৬২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানায় জন্ম বিচারপতি সূর্য কান্তের। ১৯৮৪ সালে হিসারে আইনজীবী হিসেবে তাঁর কেরিয়ার শুরু। পরে পাঞ্জাব হরিয়ানা হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করতে চণ্ডীগড়ে চলে আসেন। ২০০০ সালের জুলাইয়ে হরিয়ানার সর্বকনিষ্ঠ অ্যাডভোকেট জেনারেল হন তিনি। ২০০১ সালে পান সিনিয়র অ্যাডভোকেটের মর্যাদা। ২০০৪ সালের ৯ জানুয়ারি তাঁকে পাঞ্জাব–হরিয়ানা হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলান তিনি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০২৪ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টের ‘লিগাল সার্ভিস কমিটি’র চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করে আসছেন।



