জাতীয়

‘বঙ্কিমদা’ উচ্চারণেই ঝড় সংসদে! শেষমেশ ভুল শুধরে নয়া সম্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Narendra Modi : ‘বঙ্কিমদা’ উচ্চারণেই ঝড় সংসদে! শেষমেশ ভুল শুধরে নয়া সম্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী - West Bengal News 24

লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’-কে কেন্দ্র করে সোমবার দেখা গেল অদ্ভুত এক পরিস্থিতি। জাতীয় সঙ্গীতের আলোচনা চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর এই সম্বোধনেই আপত্তি তোলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। বারবার আপত্তির জেরে শেষ পর্যন্ত নিজের বক্তব্য থামিয়ে ভুল সংশোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিম বাবু’ বলে সম্বোধন করেন।

জাতীয় চেতনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অধিবেশনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য পেশ করেন। তিনি গানটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত বলেন। তবে ভাষণের শুরু থেকে বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে ডাকায় সৌগত রায় আপত্তি জানান। ‘অন্তত বাবু বলুন’ সৌগতর এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছাতেই তিনি বক্তব্য থামান। মোদি বলেন “আপনার ভাবনাকে আমি সম্মান করি। বঙ্কিমদা বলা আমার ভুল। ওনাকে ‘বঙ্কিমবাবু’ বলছি।” এরপর সৌগতকে উদ্দেশ করে খানিক রসিকতার সুরে যোগ করেন ”আপনাকেও তো দাদা বলেই সম্বোধন করি।” তৎপরবর্তীতে গোটা বক্তৃতায় তিনি ‘বঙ্কিমবাবু’ নামেই উল্লেখ করেন।

এদিন ‘বন্দে মাতরম’ প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ “এই গান শক্তির মন্ত্র দিয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামে গোটা দেশের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিল বন্দে মাতরম। তবে দুর্ভাগ্য, ১৯৩৭ সালে বন্দে মাতরমের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক, যা গানটির প্রাণ, সেগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বন্দে মাতরমের ওই বিভাজন দেশভাগের বীজ বপন করেছিল।” তিনি আরও যোগ করেন “আজকের প্রজন্মের জানা উচিত জাতি গঠনের এই ‘মহামন্ত্র’-এর সঙ্গে কেন এই অবিচার করা হয়েছিল। এই বিভাজনমূলক মানসিকতা এখনও দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ।” সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মোদির বক্তব্য “সরকার বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্যকে পুনরুদ্ধার করতে চায়।” এরপর লোকসভায় গানটির ‘বাদ পড়া’ অংশ পাঠ করে শোনান তিনি।

অন্যদিকে, এই আলোচনার আগে মুখ খুলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য “হোক আলোচনা, আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু এটা জেনে রাখা দরকার, বন্দে মাতরম পুরো গানটা নয়, শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্বাচন করে দেওয়া অংশই এখন আমাদের জাতীয় স্তোত্র। সেটা নিয়েই আমরা আলোচনা করব। বিজেপি অনেক কিছু জানে না। এটা আমি জানি, তাই বললাম।”

আরও পড়ুন ::

Back to top button