
ইন্ডিগোর মতো প্রশাসনিক ও পরিষেবা বিপর্যয় রেলের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে এমন সতর্কবার্তা জানাল অল ইন্ডিয়া লোকো রানিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন (AILRSA)। সংগঠনের বক্তব্য, বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে যেভাবে পাইলটদের কর্মঘণ্টা ও বিশ্রাম সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, একই ব্যবস্থা রেল ব্যবস্থায় চালু না হলে ফল হবে ভয়াবহ। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্ব ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে লোকো পাইলটদের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বাড়ছে, যার প্রভাব রেল দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি করছে। দ্রুত পদক্ষেপ না করলে ইন্ডিগোর মতই বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে রেলওয়েতে।
দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী সংকট, শ্রম আইন উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এবং বর্ধিত দায়িত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন রেলের লোকো পাইলটরা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সংগঠনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রকে সরাসরি সতর্ক করা হয়েছে যে, ইন্ডিগোর দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। বিমান সংস্থায় পাইলটদের কাজের সময় নিয়ে নির্দিষ্ট নীতি থাকলেও রেল ক্ষেত্রে সেই সুরক্ষা নেই বলে দাবি তাঁদের। এছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে, রেল কর্মীরা ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামলেই ‘জনস্বার্থ’ বা ‘জরুরি পরিষেবা’ আইন দেখিয়ে তা দমন করা হয়, অথচ কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড মানা হচ্ছে না।
সংগঠনের দাবি, রেলে দ্রুত এফআরএমএস ভিত্তিক কর্মঘণ্টা নীতি চালু করতে হবে। তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ছয় ঘণ্টার ডিউটি, নির্দিষ্ট বিশ্রামের সময়সূচি, প্রতিটি শিফটের শেষে অন্তত ১৬ ঘণ্টা বিরতি, এবং দৈনিক বিশ্রামের পাশাপাশি বাধ্যতামূলক সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, লোকো পাইলটদের সাপ্তাহিক বিশ্রাম ৫২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৪৮ ঘণ্টা করা হয়েছে এবং তার মধ্যেই ১৬ ঘণ্টার দৈনিক বিশ্রাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ২০১০ সালে কর্নাটক হাই কোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বাস্তব পরিস্থিতির খুব একটা বদল হয়নি। সংগঠনের দাবি, এই অনিয়ম চলতে থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে এবং দেশের রেল ব্যবস্থাও ইন্ডিগোর মতো অচল হয়ে পড়তে পারে।
ইন্ডিগোর সাম্প্রতিক সংকটের পেছনে মূল কারণ ছিল নতুন নিয়মের ফলে পাইলট সংকট। গত নভেম্বর থেকে কার্যকর হয় ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL) এবং ফ্যাটিগ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (FRMS) যেখানে পাইলটদের কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের সময় নির্দিষ্ট করা হয়। তার ফলেই হাজার হাজার যাত্রী বিপাকে পড়েছিলেন। রেলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। রিপোর্ট অনুযায়ী, লোকো পাইলটের প্রয়োজনীয় সংখ্যা যেখানে হওয়া উচিত ১.৪৭ লক্ষ, সেখানে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১.১৫ লক্ষ কর্মী অর্থাৎ প্রায় ৩০ হাজার পদ এখনও শূন্য।



