রাজনীতিরাজ্য

ফের বিতর্কে হুমায়ুন, সৌদি প্রতিনিধির দাবি করে রাজ্যের ক্বারীদের দিয়ে মসজিদ শিলান্যাস অনুষ্ঠান!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Humayun Kabir : ফের বিতর্কে হুমায়ুন, সৌদি প্রতিনিধির দাবি করে রাজ্যের ক্বারীদের দিয়ে মসজিদ শিলান্যাস অনুষ্ঠান! - West Bengal News 24

ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হুমায়ুন কবীর। অভিযোগ, তিনি সৌদি আরব থেকে ‘ক্কারী’ আসছেন বলে প্রচার করে রাজ্যেরই দুই ইমামকে দিয়ে মসজিদ শিলান্যাসের দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনেকের মতে, এই পদক্ষেপ ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি প্রতারণা। যদিও হুমায়ুনের অভিযোগ, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপমান করার জন্য রাজ্যেরই মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ষড়যন্ত্র করেছেন। তবে সিদ্দিকুল্লা সেই দাবি মানতে নারাজ।

গত ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় তথাকথিত ‘বাবরি’ মসজিদের শিলান্যাসের কর্মসূচির আগে হুমায়ুন দাবি করেন, অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে অতিথিরা আসবেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে দুই ‘ক্কারী’ অর্থাৎ মক্কার ইমাম অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উপস্থিত হবেন। সেই বিশ্বাসে বহু মানুষ শিলান্যাসে যোগ দেন। দুই ইমামকে কেন্দ্রস্থলে রেখে সমগ্র আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসে, অনুষ্ঠানে সৌদি থেকেও কেউ আসেননি। অনুষ্ঠানে যাঁদের ‘বিশেষ অতিথি’ বানানো হয়েছিল, তাঁদের এক জন মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদের বাসিন্দা সুফিয়া এবং অপর জন পূর্ব মেদিনীপুরের শেখ আবদুল্লা। এরপর থেকেই বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়কের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র।

হুমায়ুনের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে সমস্যায় ফেলার জন্যই এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি মধ্যস্থতাকারীদের সম্পূর্ণ ভরসা করেছিলাম। বিমানের টিকিট ও অন্য খরচ পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আর কোনও খোঁজখবর নিতে পারিনি। এখন শুনছি ওরা রাজ্যের বাসিন্দা।” তাঁর কথায়, সৌদি থেকে ক্কারী আনার পুরো দায়িত্ব তিনি এক মধ্যস্থতাকারীর উপর দিয়েছিলেন, এবং প্রয়োজনীয় খরচও মিটিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানা যায়, কেউই বিদেশ থেকে আসেননি।

এই অভিযোগ স্বীকার করেন মধ্যস্থতাকারী খন্দকার ইউসুফও। তিনি বলেন, “টাকা পয়সা হুমায়ুন সাহেব পাঠালেও শেষ মুহূর্তে আর সৌদি থেকে মেহমান আনা সম্ভব হয়নি। ভিড়ের মধ্যে মঞ্চেও আর বলা হয়ে ওঠেনি যে ওঁরা সৌদি আরবের নন। আমার উপরে দায়িত্ব ছিল, আমি সেই দায়িত্ব পালন করতে পারিনি।”

হুমায়ুন সরাসরি দায় চাপিয়েছেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর উপর। তাঁর দাবি, “গোটা পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। আমাকে অপদস্থ করতে তিনিই মধ্যস্বত্ত্বকারীদের প্রভাবিত করেছেন।” যদিও সিদ্দিকুল্লা এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমি নিজে একটা সংগঠন চালাই। যার অধীনে ১১০০ মাদ্রাসা চলে। আমার এসব লোককে অপদস্থ করার দরকার হয় না। নিজে যা করছেন করুন, আমাকে টানবেন না।”

হুমায়ুনের এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে—সৌদির নাম ভাঙিয়ে জনমানসকে বিভ্রান্ত করা কি ইচ্ছাকৃত প্রয়াস? নাকি এর পিছনে আরও গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে?

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য