রাজ্য

সরকারি কাজের টাকা পেতে আর অপেক্ষা নয়, ব্যবসায়ীদের স্বস্তিতে নতুন পোর্টাল রাজ্য সরকারের

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সরকারি কাজের টাকা পেতে আর অপেক্ষা নয়, ব্যবসায়ীদের স্বস্তিতে নতুন পোর্টাল রাজ্য সরকারের - West Bengal News 24

সরকারি কাজ শেষ করেও দীর্ঘদিন টাকা না পাওয়ার সমস্যা থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছেন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বুধবার একটি নতুন পোর্টাল চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি কাজ শেষের পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পারিশ্রমিক পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই পোর্টাল বাংলার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ করার পর বহু ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারকে টাকা পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। সেই সমস্যা দূর করতেই এই নতুন ডিজিটাল পোর্টাল চালু করা হয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা সংস্থাকে ওই পোর্টালে প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করতে হবে। এরপর পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত ৭২টি ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক সংস্থা দ্রুত সেই ব্যবসায়ীকে টাকা দিয়ে দেবে। পরে রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক সংস্থাকে ওই অর্থ ফেরত দেবে।

শুধু অর্থপ্রাপ্তির সুবিধাই নয়, এই পোর্টালের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা কোনও অভিযোগ জানাতেও পারবেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, স্বচ্ছতা বজায় রেখে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বারবার বাংলাকে ব্যবসার জন্য উপযুক্ত রাজ্য হিসেবে তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অনলাইন কেনাকাটির প্রবণতা বাড়লেও রাজ্যের অর্থনীতির আসল মেরুদণ্ড হল খুচরো ব্যবসায়ীরা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “রাজ্যে অসংগঠিত ক্ষেত্রে প্রায় ৬৫ লক্ষ ব্যবসায়ী রয়েছেন। খুচরো ব্যবসায়ীরাই বাংলার অর্থনীতির ভিত্তি।”

কেন্দ্রের নোটবন্দি সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে মমতা গত কয়েক বছরে রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, একসময় রাজ্যে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ, যা তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়াতে রাজ্যে ছ’টি ইকোনমিক করিডর তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই করিডরের চারপাশে শিল্প, দোকান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে উঠবে, যার ফলে খুচরো ব্যবসায়ীরা সরাসরি লাভবান হবেন।

এছাড়াও তিনি জানান, রাজ্যে লজিস্টিক সেক্টরকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কলকাতা ও শিলিগুড়িতে এক্সপোর্ট সেন্টার খোলা হয়েছে, যা রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও মজবুত করবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাংলায় বর্তমানে ৬৬০টির বেশি এমএসএমই ক্লাস্টার রয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। মহিলাদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এর ফলে কয়েক লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নতুন পোর্টালের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের আর্থিক সমস্যা যেমন কমবে, তেমনই রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিও আরও চাঙ্গা হবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আগামী দিনে শিল্পক্ষেত্রে বাংলা শুধু দেশের মধ্যেই নয়, গোটা বিশ্বকে পথ দেখাবে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button