তিন নতুন বিমানসংস্থাকে ছাড়পত্র কেন্দ্রের, আগামী বছরেই উড়ান শুরু? ইন্ডিগোর দাপট কমাতে উদ্যোগ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সাম্প্রতিক বিমান পরিষেবা বিপর্যয়ের পর বিরোধীরা বারবার ইন্ডিগোর একচেটিয়া প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সেই প্রেক্ষিতেই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। উড়ান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে তিনটি নতুন বিমানসংস্থাকে। সব পরিকল্পনা মতো এগোলে আগামী বছর থেকেই ভারতের আকাশে উড়তে পারে ওই সংস্থাগুলির বিমান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন এতে কি ইন্ডিগোর দীর্ঘদিনের আধিপত্যে কিছুটা হলেও লাগাম পড়বে?
বর্তমানে দেশের বিমান পরিষেবা বাজারের বড় অংশই ইন্ডিগোর দখলে। এই আধিপত্যের কারণেই পাইলটদের বিশ্রাম সংক্রান্ত নির্দেশিকা কার্যকর করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিল সংস্থাটি। তার প্রভাব সরাসরি পড়ে যাত্রী পরিষেবায়। দেশ-বিদেশের বহু যাত্রীকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এই পরিস্থিতিতে শঙ্খ এয়ার, আল হিন্দ এয়ার এবং ফ্লাই এক্সপ্রেস এই তিনটি নতুন সংস্থাকে সক্রিয় করতে উদ্যোগী হয় কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। এর মধ্যে শঙ্খ এয়ার আগেই প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছিল। সূত্রের খবর, আগামী বছর থেকেই যাতে এই তিন সংস্থা নিয়মিত উড়ান শুরু করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এগোচ্ছে কেন্দ্র।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের আকাশপথের প্রায় ৬৪ শতাংশ ইন্ডিগোর দখলে, আর এয়ার ইন্ডিয়ার হাতে রয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ মোট বাজারের ৯০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র দুইটি সংস্থা। অসামরিক বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পাইলটদের কাজ ও বিশ্রাম সংক্রান্ত নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছিল। প্রথমে জানানো হয়, ছয় মাস পর এই নিয়ম কার্যকর হবে। পরে ইন্ডিগোর অনুরোধে সেই সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু একাধিকবার সময় বাড়ানো সত্ত্বেও নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এর জেরে শীতকালীন সূচি চালু হতেই বহু উড়ান বাতিল হয়। দিনে যেখানে প্রায় ২৩০০টি উড়ান চলত, সেখানে সংখ্যা কমে যায় ৫০০টিরও বেশি। দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছয়। এই ঘটনার পরই ইন্ডিগোর একচেটিয়া প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয় এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
এই পরিস্থিতিতে নতুন বিমানসংস্থাগুলির উড়ান শুরু হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। বুধবার সমাজমাধ্যমে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নায়ডু জানান, শঙ্খ এয়ার, আল হিন্দ এয়ার ও ফ্লাই এক্সপ্রেসকে উড়ান চালানোর চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে।



