রাজ্য

তাঁকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন, আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের অতীত কী?

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Pratik Jain : তাঁকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন, আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের অতীত কী? - West Bengal News 24

প্রতীক জৈন রাজ্য রাজনীতিতে এতদিন নেপথ্যেই সক্রিয় ছিলেন তিনি। তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল থেকে শুরু করে সংগঠন সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্তে তাঁর সংস্থার ভূমিকা থাকলেও সবটাই চলত আড়ালে। দীর্ঘদিন ‘মেঘনাদের’ মতো পর্দার আড়াল থেকেই কাজ করেছেন প্রতীক। তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর হঠাৎই তিনি রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসেন। ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইডির টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে আসে তাঁর নাম। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে কে এই প্রতীক জৈন, কীভাবেই বা তাঁর উত্থান?

ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা প্রতীক জৈন উচ্চশিক্ষা লাভ করেন আইআইটি বম্বে থেকে। লিঙ্কডইন প্রোফাইলে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, বম্বেতে ভর্তি হন। সেখানে মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল সায়েন্স বিষয়ে বি-টেক সম্পন্ন করেন। স্নাতক হওয়ার পর কিছু সময় অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে ইন্টার্নশিপ করেন তিনি। এরপর ২০১২ সালে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ডেলয়েটে যোগ দেন এবং সেখানে প্রায় ১৫ মাস কাজ করেন।

এরপরই ধীরে ধীরে রাজনীতির জগতে পা রাখেন প্রতীক। ২০১৩ সালে তিনি ‘সিটিজেনস ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন, যা ২০১৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। এই সংস্থার কাজ মূলত গুজরাটে সীমাবদ্ধ ছিল। সেই সময়েই তাঁর পরিচয় হয় প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে। ওই যোগাযোগের সূত্র ধরেই পরে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আই-প্যাক গড়ে ওঠে। সরকারিভাবে আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রতীকের সঙ্গে রয়েছেন ভিনেশ চান্দেল ও ঋষিরাজ সিং।

২০১৫ সাল থেকেই আই-প্যাক দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটকুশলী সংস্থা হিসেবে কাজ করে আসছে। বিহার, পাঞ্জাব, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গে তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সাফল্যের দাবি করেছে। বর্তমানে বাংলায় তৃণমূলের পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করছেন প্রতীক জৈন। তবে যতদিন প্রশান্ত কিশোর আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ততদিন প্রতীক বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রে আসেননি।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের আই-প্যাক অফিসে হানা দেয় ইডি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, আই-প্যাক কর্ণধারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, প্রতীক তাঁর দলের আইটি সেলের দায়িত্বে রয়েছেন এবং তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই টানাপোড়েনেই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন প্রতীক জৈন।

আরও পড়ুন ::

Back to top button