
কয়লা পাচার ও গরু পাচার ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলের মধ্যে চাপানউতোর চলছে। কেন্দ্রের শাসকদল বারবার এই সব কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। পালটা তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে যদি কয়লা বা গরু পাচার হয়, তাহলে তার দায় কার। তাদের যুক্তি, সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে থাকা বিএসএফ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন, ফলে সীমান্তে নজরদারির ঘাটতির দায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকেরই। এই আবহেই বৃহস্পতিবার সকালে কয়লা পাচার মামলার সূত্রে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়। এরপরই কয়লা চুরি নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আইপ্যাক অফিসে ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে যাদবপুর এইট বি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিল শুরু হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। দলীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। বিকেলের দিকে হাজরা মোড়ে গিয়ে মিছিল শেষ হয় এবং সেখানে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভা থেকেই কয়লা পাচার মামলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ঘিরে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”ইডি বলছে, কয়লা পাচার মামলার তদন্ত করতে এসেছিল। আমার প্রশ্ন, কয়লা চুরির টাকা কে খায়, কী করে খায়? গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়। এখন তো সে ‘অ্যাডপটেড সন’ হয়ে গিয়েছে। আরেকজন রয়েছে জগন্নাথ। বিজেপির জগন্নাথ টু শুভেন্দু অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারী টু অমিত শাহ এইভাবে কয়লা চুরির টাকা পকেটে ঢোকে।”
এর পর আরও কড়া সুরে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ”এই বিজেপিকে আমরা ভদ্রতা দেখাই। আমরা চাইলে অনেক কিছু করতে পারতাম। আপনাদের ভাগ্য ভালো যে আমি চেয়ারে আছি, তাই ওই পেনড্রাইভগুলো এখনও ফাঁস করিনি। আমি অনেক কিছু জানি। বলি না, দেশের স্বার্থে, দেশকে ভালোবাসি বলে। আমি সব বলে দিলে, সব ফাঁস করে দিলে তোলপাড় পড়ে যাবে। আমি চাই না, দেশে অস্থিরতা তৈরি হোক। তাই অনেক কিছু জানা সত্ত্বে বলি না।”



