
দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রী নির্যাতন মামলায় শুক্রবার আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় দেখা গেল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেওয়া প্রাথমিক বয়ান থেকে সরে এসে নির্যাতিতা আদালতে পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানই তুলে ধরলেন। ক্লোজ ডোর সাক্ষ্যগ্রহণে তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযুক্ত সহপাঠী ও অন্যদের ভূমিকার বিবরণ দেন।
শুক্রবার এডিজে স্পেশাল সেশন বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। আদালত কক্ষ বন্ধ রেখে কেবল অভিযুক্তদের আইনজীবী, তাঁদের সহকারীরা এবং বিশেষ সরকারি আইনজীবীর উপস্থিতিতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে নির্যাতিতা জানান, অভিযুক্ত সহপাঠী ওয়াসিফ আলি তাঁকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দেয় এবং যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে। পাঁচ অভিযুক্তকে শনাক্ত করার সময় তিনি একজনকে দেখিয়ে বলেন, ওই অভিযুক্তই তাঁকে ধর্ষণ করেছে। নির্যাতিতার স্পষ্ট ও সাবলীল বক্তব্যে অভিযুক্তদের মধ্যে অস্বস্তি চোখে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী সহপাঠী ওয়াসেফ আলির সঙ্গে রাতের খাবার খেতে বেরিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে নির্যাতনের শিকার হন। ঘটনার পর পুলিশ সহপাঠীসহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতিতার বয়ান একরকম হলেও পরে পুলিশের কাছে তিনি ভিন্ন বয়ান দেন।
এদিন আদালতে নির্যাতিতার পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ান, গোপন জবানবন্দি, এফআইআর এবং ছ’টি মেডিক্যাল রিপোর্ট পেশ করা হয়। তবে সাক্ষ্যগ্রহণ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। আজ শনিবার ফের নির্যাতিতার সাক্ষ্য নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের সওয়াল পর্ব এখনও শুরু হয়নি, তবে তা শীঘ্রই শুরু হবে বলেই জানা গিয়েছে।



